পুলিশকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েই নিজে মাঠে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী! সংখ্যালঘু এলাকার দুই স্পর্শকাতর থানায় আচমকা পরিদর্শনে কী দেখলেন?

সকাল থেকেই পিডব্লিউডি টেন্টে-র বৈঠকে অত্যন্ত ব্যস্ত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেই ঠাসা কর্মসূচির ফাঁকেই আচমকা রুটিন বদল করে বুধবার দুপুরে সোজা পৌঁছে গেলেন নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ থানায়। ওয়াটগঞ্জ ও ইকবালপুর থানায় মুখ্যমন্ত্রীর এই সারপ্রাইজ ভিজিট ঘিরে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য পুলিশ ও রাজনৈতিক মহলে।
মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই রয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতরও। নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই পুলিশি পরিকাঠামো ঢেলে সাজানোর কথা বারবার বলেছেন তিনি। এর আগে ভবানী ভবনে এবং ব্যারাকপুরের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলেও গিয়েছেন তিনি। পুলিশের মনোবল বৃদ্ধি করতে সব সময় পাশে থাকার কথা বললেও, এবার নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে থাকার দিনই সরাসরি থানাগুলির পরিকাঠামো নিজের চোখে খতিয়ে দেখলেন। ঘড়িতে তখন দুপুর ১টা ১৫ মিনিট। পুলিশের কাছে কোনো আগাম খবর ছিল না। আচমকাই ওয়াটগঞ্জ থানায় এসে পৌঁছন মুখ্যমন্ত্রী। গাড়ি থেকে নেমেই সোজা চলে যান ‘মহিলা সহায়তা ডেস্ক’-এ। সেখানে দায়িত্বে থাকা মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। তাঁর কাছে জানতে চান, ‘‘কীভাবে রিপোর্ট লেখানো হয়?’’ ওই ডেস্কে এখনও পর্যন্ত কোনো অভিযোগ জমা পড়েছে কি না, তারও খোঁজ নেন তিনি। এরপর নিচুতলার পুলিশকর্মীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাঁদের সুবিধা-অসুবিধার কথা মন দিয়ে শোনেন।
এরপর থানার অন্যান্য পরিকাঠামোর দিকে নজর দেন মুখ্যমন্ত্রী। অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ঠিকঠাক কাজ করছে কি না, তা নিজে ঘুরে দেখেন। মজুত থাকা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্রগুলির মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে কি না, তা খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন। থানা চত্বর ঘুরে সরাসরি পৌঁছে যান বন্দিদের রাখার লকআপে। সার্বিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। মোটের ওপর ওয়াটগঞ্জ থানায় মিনিট পাঁচেক ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। ওয়াটগঞ্জ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় সোজা চলে যায় ইকবালপুর থানায়। সেখানেও পরিদর্শনের ধরন ছিল একই রকম। প্রথমেই তিনি যান মহিলা হেল্প ডেস্কে। কথা বলেন কর্তব্যরত মহিলা পুলিশকর্মীর সঙ্গে। এরপর থানার অন্যান্য জিনিসপত্র ঘুরে দেখেন এবং বাদ যায়নি থানার লকআপও। আধিকারিকদের কাছে তিনি জানতে চান, গত ২৪ ঘণ্টায় থানায় কতগুলি অভিযোগ জমা পড়েছে এবং সেই অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে ঠিক কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নারী নিরাপত্তায় অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আগেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, নারী সুরক্ষায় তাঁর সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবে। পাশাপাশি, কাজ করার জন্য পুলিশকে তিনি ‘ফ্রি হ্যান্ড’ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য সরকারের তরফ থেকে সব ধরনের সাহায্য করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে নিজের বিধানসভা এলাকার থানাগুলিতে পরিকাঠামো ঠিক আছে কি না, সেটাই আচমকা যাচাই করে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই থানা পরিদর্শন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই পরিদর্শনের নেপথ্যে একটি বড় কারণ রয়েছে। ওয়াটগঞ্জ এবং ইকবালপুর—দুটি থানাই সংখ্যালঘু এলাকায় অবস্থিত এবং অতীতে এই দুটি থানাতেই ভাঙচুরের মতো অনভিপ্রেত ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। তাই সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে মুখ্যমন্ত্রীর এই আচমকা পরিদর্শন অত্যন্ত ইঙ্গিতবহ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একটি স্পষ্ট ও কড়া বার্তাও বটে।