গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে মানুষের পাশাপাশি সমান বিপদে পড়ছে আমাদের আদরের পোষা প্রাণীরাও। তীব্র রোদ, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা এবং লু হাওয়া তাদের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কুকুর, বিড়াল, খরগোশ কিংবা পাখিরা এই সময় জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) এবং হিটস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার প্রবল ঝুঁকিতে থাকে। যেহেতু মানুষের মতো প্রাণীদের শরীর থেকে ঘাম নির্গত হয়ে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ হয় না, তাই তাদের ঝুঁকি বহুগুণ বেশি। একজন সচেতন মালিক হিসেবে এই সময় আপনার পোষ্যের প্রতি দায়িত্ব দ্বিগুণ করা প্রয়োজন।
কেন বাড়ছে ঝুঁকি?
কুকুর মূলত হাঁপানোর মাধ্যমে এবং বিড়াল তাদের থাবার সাহায্যে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু বাইরের তাপমাত্রা যখন চরমে পৌঁছায়, তখন এই প্রাকৃতিক পদ্ধতি আর কার্যকর থাকে না। ফলে প্রাণীরা শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা এবং এমনকি জ্ঞান হারানোর মতো ভয়াবহ সমস্যায় ভুগতে পারে। বয়স্ক প্রাণী, অল্পবয়সি পোষ্য এবং আগে থেকে অসুস্থ প্রাণীরা এই তাপপ্রবাহে সবথেকে বেশি অরক্ষিত। এছাড়া, লম্বা লোমযুক্ত জাতের কুকুর বা বিড়াল তাপের তীব্রতা অনেক বেশি অনুভব করে।
কীভাবে নেবেন বিশেষ যত্ন?
পর্যাপ্ত হাইড্রেশন নিশ্চিত করুন: গ্রীষ্মে পোষ্যের জন্য বিশুদ্ধ জলই হলো সবচেয়ে বড় ওষুধ। জলের পাত্র সব সময় পরিষ্কার রাখুন এবং দিনে অন্তত ৩-৪ বার জল বদলে দিন। পাত্রে বরফের টুকরো মিশিয়ে জল ঠান্ডা রাখতে পারেন। আপনার পোষ্য যদি বাগানে বা বারান্দায় সময় কাটায়, তবে সেই কোণেও জলের পাত্র রাখুন।
বাইরে বেরোনোর সময় সতর্ক হোন: দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত তীব্র রোদ থাকে। এই সময় পোষ্যকে বাইরে বের করা কঠোরভাবে বর্জন করুন। যদি কুকুরকে হাঁটানো অপরিহার্য হয়, তবে খুব ভোরবেলা বা সূর্যাস্তের পর সময় বেছে নিন। মনে রাখবেন, ফুটপাতের উত্তপ্ত পিচ আপনার পোষ্যের পায়ের থাবা পুড়িয়ে ফেলতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে হাতের তালু দিয়ে রাস্তার উত্তাপ পরীক্ষা করে নিন।
শীতল পরিবেশ নিশ্চিত করুন: আপনার পোষ্যকে বাড়ির এমন স্থানে রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত হাওয়া-বাতাস চলাচল করে। বাড়িতে এসি বা কুলার থাকলে তাদের সেই শীতল পরিবেশে থাকতে দিন। মেঝেতে ভেজা তোয়ালে বিছিয়ে দেওয়া বা ‘কুলিং ম্যাট’ ব্যবহার করা তাদের শরীরের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। বিশেষ করে পাখিদের খাঁচা কখনোই সরাসরি সূর্যের আলোর নিচে বা জানলার ধারে রাখবেন না।
পোষ্যের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখলে বা তাদের অতিরিক্ত হাঁপাতে দেখলে দেরি না করে অবিলম্বে পশু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। আপনার সামান্য সতর্কতা ও সঠিক যত্নই পারে এই দাবদাহে আপনার আদরের বন্ধুকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে।





