ভারতের জ্বালানি খাত (Energy Sector) হয়তো সবসময় গ্ল্যামারাস শিরোনামে থাকে না, কিন্তু ২০২৬ সালের শুরুতেই এই খাত নিঃশব্দে এক বিশাল অর্থনৈতিক বিপ্লবের ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের বিদ্যুৎ, পেট্রোল এবং গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদাই এখন বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় জ্বালানি সংস্থাগুলোতে তাদের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। বিশ্ববাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতের এই খাতে বিদেশি পুঁজির ঢল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি লুকিয়ে রয়েছে তেল ও গ্যাস সেক্টরেই।
তালিকায় কোন কোন শেয়ার?
২০২৬ সালের মার্চ ত্রৈমাসিক শেষে দেখা যাচ্ছে, বড় বড় বিদেশি ফান্ড হাউসের নজরে রয়েছে মূলত তিনটি সরকারি মহারত্ন কোম্পানি। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে আইওসি (IOC), বিপিসিএল (BPCL) এবং ওএনজিসি (ONGC)।
১. বিপিসিএল (BPCL):
ভারত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন লিমিটেডে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অংশীদারিত্ব ১.১১ শতাংশ বেড়েছে। ডিসেম্বর ২০২৫-এ যেখানে এফআইআই হোল্ডিং ছিল ১৮.৪ শতাংশ, মার্চ ২০২৬-এ তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.৫ শতাংশে। অপরিশোধিত তেলের দামের সুবিধাজনক অবস্থান এবং সংস্থার শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করছে।
২. আইওসি (IOC):
সবচেয়ে চমকপ্রদ বৃদ্ধি দেখা গেছে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনে। এখানে বিদেশি বিনিয়োগ বেড়েছে ১.২৭ শতাংশ। ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৮.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে তা ৯.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। পরিবেশবান্ধব গ্রিন এনার্জি প্রজেক্টে সংস্থার বিপুল বিনিয়োগই এই আস্থার মূল কারণ।
৩. ওএনজিসি (ONGC):
তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানে দেশের শীর্ষ সংস্থা ওএনজিসি-তেও ০.৫ শতাংশ বিনিয়োগ বাড়িয়েছে এফআইআই-রা। বর্তমানে এই সংস্থায় বিদেশি হোল্ডিং ৭.৯ শতাংশ।
কেন এই হঠাৎ ঝোঁক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, চারটি প্রধান কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এই খাতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন। প্রথমত, ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির বিপুল চাহিদা। দ্বিতীয়ত, কোম্পানিগুলোর গ্যাস ও নবায়নযোগ্য শক্তির মতো ভবিষ্যৎমুখী ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের স্থিতিশীলতা যা এই কোম্পানিগুলোর মার্জিন বাড়াতে সাহায্য করছে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য বার্তা:
এফআইআই-দের এই বিনিয়োগ বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি শক্তিশালী পজিটিভ সিগন্যাল। তবে মনে রাখতে হবে, জ্বালানি খাতের শেয়ার সরাসরি বিশ্ববাজারের পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তাই বিনিয়োগের আগে ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা জরুরি। তবে বর্তমান ধারা বলছে, ২০২৬ সালে এই খাতটি বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন সোনার খনি হয়ে উঠতে পারে।





