গভীর রাতে দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা! দ্রুতগতির গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারালেন স্কুটারচালক

রাতবিরেতের এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কেঁপে উঠল হাওড়া। দ্বিতীয় হুগলি সেতুর আন্দুল অ্যাপ্রোচ রোডের ওপর ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ‘হিট অ্যান্ড রান’ কাণ্ডে প্রাণ হারাতে হলো এক স্কুটার আরোহীকে। দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির সজোরে ধাক্কায় রাস্তায় ছিটকে পড়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার পর থেকেই ঘাতক গাড়িটি ও তার চালক পলাতক রয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হাওড়ার এ.জে.সি. বোস বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার অন্তর্গত দ্বিতীয় হুগলি সেতুর আন্দুল অ্যাপ্রোচ রোডের ৩ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই স্কুটার আরোহী নারায়ণ হাসপাতালের দিকে যাচ্ছিলেন। ঠিক সেই সময়ই পিছন দিক থেকে একটি দ্রুতগামী গাড়ি তাঁকে সজোরে ধাক্কা মারে। ধাক্কার তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে তিনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়েন এবং তাঁর মাথায় মারাত্মক চোট লাগে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে শুরু করে।

খবর পেয়ে তৎক্ষণাৎ ট্রাফিক পুলিশের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে এক ট্যাক্সিতে করে আহত ব্যক্তিকে দক্ষিণ হাওড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য দ্বিতীয় হুগলি সেতুর আন্দুল অ্যাপ্রোচ রোডে যান চলাচল সম্পূর্ণ ব্যাহত হয়। পরে অবশ্য ট্রাফিক পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। তবে এখনও পর্যন্ত মৃত ব্যক্তির কোনো পরিচয় জানা যায়নি। বোটানিক্যাল গার্ডেন থানার পুলিশ একটি নির্দিষ্ট মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।

দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের সমস্ত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সিসিটিভি ফুটেজের সাহায্যেই ধাক্কা মেরে পালিয়ে যাওয়া গাড়িটি এবং তার চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গেও কথা বলছেন পুলিশকর্মীরা। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, সিসিটিভি ফুটেজ থেকেই এই রহস্যের কিনারা মিলতে পারে এবং খুব শীঘ্রই ঘাতক গাড়িটিকে আটক করা সম্ভব হবে।

এদিকে, অপর একটি পৃথক দুর্ঘটনায় গত ২ অগাস্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনার মন্দিরবাজারে উল্টে যায় একটি যাত্রীবোঝাই বাস। ঢোলাহাট থেকে লক্ষ্মীকান্তপুরের দিকে আসা ৮৯ রুটের ওই বাসটি মন্দিরবাজারের কাছে একটি পিকআপ ভ্যানকে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এই দুর্ঘটনায় বাসের কন্ডাক্টর খোকন সর্দার ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং আহত হন বহু যাত্রী। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ এই দুর্ঘটনার জন্য এলাকার বেহাল রাস্তাকেই প্রধানত দায়ী করেছেন।