গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য, ধৃত ৩ অভিযুক্তের ১০ দিনের হেফাজত, ‘কঠোরতম ব্যবস্থা’র নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় রবিবার সকালেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিল পুলিশ-প্রশাসন। ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালত ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। এই ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হওয়ার পরই কড়া পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ ও পাল্টা আক্রমণ:
রবিবার উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি এই প্রসঙ্গে বিরোধীদের আক্রমণকে পাল্টা নিশানা করে বলেন, ওড়িশা-সহ অন্যান্য বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলিতে ধর্ষণের যে অভিযোগ ওঠে, তা নিয়েও যেন কথা বলা হয়।

কী ঘটেছিল সেই রাতে:
নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা। তাঁর পরিবার জানিয়েছে, গত ১০ অক্টোবর রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ ওই ডাক্তারি পড়ুয়া কলেজের বাইরে খেতে বেরিয়েছিলেন। সেই সময় কয়েকজন যুবক তাঁকে গণধর্ষণ করে এবং এরপর তাঁর মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয় দুষ্কৃতীরা।

ঘটনার ক্রম: নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথমে তিনজন যুবক এসে তাঁর মোবাইল কেড়ে নেয় এবং পরে একজন তাঁকে ধর্ষণ করে। এরপর ওই তিনজন চলে যাওয়ার পর অন্য আরও দু’জন আসে।

তদন্তের অগ্রগতি: আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অধীনস্থ দুর্গাপুর নিউ টাউনশিপ থানা পরানগঞ্জ কালীবাড়ি শ্মশান সংলগ্ন জঙ্গলে ড্রোন উড়িয়ে নিবিড় তদন্ত চালাচ্ছে।

আদালতের নির্দেশের পর এখন ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অভিযুক্তদের সন্ধান এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদঘাটন করাই পুলিশের মূল লক্ষ্য।