‘গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবিত করছি’-কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করেই সংসদ চলোর ডাক CJP-র!

সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনেই উত্তাল রাজধানী। NEET পরীক্ষায় অনিয়ম ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ঘোষিত ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লি জুড়ে জারি হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

দিল্লি পুলিশের কড়া অবস্থান: রবিবার রাতেই এক জনবিজ্ঞপ্তি জারি করে দিল্লি পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, CJP-র এই মিছিলের জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ডিসিপি শচীন শর্মা জানিয়েছেন, নতুন দিল্লি জেলায় ভারতীয় অসামরিক সুরক্ষা আইনের (BNSS) ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। এই আইন অনুযায়ী, পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তি একসঙ্গে জমায়েত হতে পারবেন না। কোনো ধরনের মিছিল বা শোভাযাত্রা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। যারা আইন অমান্য করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উচ্চ-নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে রাজধানী: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানীতে প্রায় ৫,০০০ পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। গোটা এলাকাকে ১৫টি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হয়েছে। সংসদ ভবন, বিজয় চক, নর্থ ও সাউথ ব্লকের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে বসানো হয়েছে বহুস্তরীয় ব্যারিকেড। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তগুলোতে চলছে কড়া তল্লাশি। দাঙ্গা দমনকারী জলকামান, কিউআরটি (QRT) এবং অতিরিক্ত রিজার্ভ ফোর্সকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কী বলছেন CJP প্রতিষ্ঠাতা? সকল সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও পুলিশের হুঁশিয়ারিকে কার্যত বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী। এদিন সকালে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে ভাষণে CJP প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক বলেন, “এটি ভারতের ইতিহাসে অন্যতম বড় পদযাত্রা। গত ১০-১২ বছর ধরে গণতন্ত্র ধ্বংসের যে চেষ্টা হয়েছে, আজ আমরা তা পুনরুজ্জীবিত করছি। আমাদের প্রথম বিজয় হলো এই বিশাল জনসমাবেশ।”

জনসাধারণের প্রতি পুলিশের আবেদন: দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ নাগরিকদের আইন মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো ধরনের অননুমোদিত জমায়েতে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকতে এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনকে সহযোগিতা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।