গজবেশে দর্শন দিলেন মহাপ্রভু! মায়াপুরে স্নানযাত্রার মহোৎসবে উপচে পড়া ভিড়

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য এবং হাজারো ভক্তের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠল মায়াপুর। সোমবার ইসকনের রাজাপুর জগন্নাথ মন্দিরে মহাআড়ম্বরে পালিত হলো জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা। পুরীর ঐতিহ্যের সাথে তাল মিলিয়ে মায়াপুরেও শুরু হলো রথযাত্রার মূল সূচনাপর্ব।
কেন এই স্নানযাত্রা বিশেষ? শাস্ত্রীয় রীতি মেনে পবিত্র গঙ্গাজল, চন্দন, দুধ, দই, মধু, ঘি এবং সুগন্ধি দ্রব্য দিয়ে জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার অভিষেক সম্পন্ন হয়। এই স্নানযাত্রার পরেই এক বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অতিরিক্ত জলের প্রভাবে জগন্নাথদেব অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই পরবর্তী ১৫ দিন তিনি থাকবেন ‘অনসর’ কক্ষে অর্থাৎ গৃহবন্দি অবস্থায়। এই সময়কালের জন্য সাধারণ ভক্তদের দর্শন বন্ধ থাকবে। এরপর ‘নবযৌবন’ দর্শনের পরেই মহাধুমধামে রথে আরোহণ করবেন মহাপ্রভু।
গজবেশের টানে উপচে পড়া ভিড়: স্নানের পরেই ভগবানকে ঐতিহ্যবাহী ‘গজবেশে’ সজ্জিত করা হয়। এই বিশেষ রূপ দেখার জন্য মন্দির চত্বরে এদিন কয়েক হাজার ভক্তের ঢল নেমেছিল। হরিনাম সংকীর্তন, বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ এবং গীতা পাঠের মাধ্যমে মায়াপুরে তৈরি হয়েছিল আন্তর্জাতিক ভক্তি সাধনার এক অনন্য পরিবেশ। মায়াপুর ছাড়াও হুগলির মাহেশ, চন্দননগর এবং গুপ্তিপাড়াতেও স্নানযাত্রার একই চিরাচরিত ঐতিহ্য দেখা গেছে।
রথযাত্রার প্রস্তুতি: স্নানের এই বিশেষ উৎসবটি কেবল একটি আচার নয়, বরং আগামী রথযাত্রার আনুষ্ঠানিক সূচনালগ্ন। পুলিশের কড়া নজরদারি ও ইসকন কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় শান্তিতেই সম্পন্ন হয়েছে স্নানপর্ব। এখন গোটা বিশ্বের ভক্তদের নজর ‘নবযৌবন দর্শন’ এবং বহুল প্রতীক্ষিত রথযাত্রার দিকে।