গঙ্গার তীরে ‘জলতরঙ্গ’! ৩ বছর পূর্তিতে নতুন কর্মসূচি রাজ্যপাল বোসের, দোকানে খেলেন ছোলা সেদ্ধ ও চপ

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের তিন বছর পূর্তিতে (২০২২ সালের ১৮ নভেম্বর) এক নতুন কর্মসূচি শুরু করলেন। গঙ্গা তীরবর্তী এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করতে তিনি ‘জলতরঙ্গ’ নামে এই বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। শুক্রবার কলকাতা রিভার ট্র্যাফিক গার্ডের জেটি ঘাট থেকে বোটে করে একাধিক এলাকা পরিদর্শনে যান তিনি।

এদিন রাজ্যপাল মোট তিনটি এলাকা—নাজিরগঞ্জ, সাঁকরাইল এবং বজবজ—পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে নাজিরগঞ্জে পৌঁছে তিনি স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সেখানকার একটি দোকানে যান।

তিনি ছোলা সেদ্ধ ও চপ খেয়ে দোকানদারকে খুশি করেন। ছোলা খেয়ে বাংলায় তিনি বলেন, “ছোলা খুব ভাল আছে।” এরপর চপ খেয়ে দোকানদারের উদ্দেশ্য বলেন, “বহুত আচ্ছা। ভাল আছে।”

দোকানদার কল্পনা দুয়ারী রাজ্যপালকে তাঁর দোকানে পেয়ে আনন্দিত। তিনি বলেন, “ছোলা সেদ্ধ ও চপ দিয়েছি। ভাল হয়ে বলেছেন।” এরপর আরেক দোকানে এক কাপ চা পান করেন রাজ্যপাল। দোকানদার সনাতনী পাত্র বলেন, “এক কাপ চা খেয়েছেন। আমার নাম জিজ্ঞাসা করলেন। আমার দোকানে চা খাবেন, ভাবতে পারিনি। কতদিন দোকান রয়েছে, জানতে চাইলেন।”

‘বাংলার আত্মাকে জানতে চাই’:
‘জলতরঙ্গ’ কর্মসূচি নিয়ে টিভি৯ বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস তাঁর এই উদ্যোগের কারণ ব্যাখ্যা করেন।

“সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতেই মানুষের কাছে পৌঁছতে চেয়েছি। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের অনুভূতি জানব। তাঁদের সমস্যার কথা জানব। তাঁরা কী সমাধান চাইছেন, সেটাও শুনব। এটা আমার কাছে শিক্ষণীয় বিষয়। আমি বাংলার আত্মাকে জানতে চাই। আর বাংলার আত্মা রয়েছে গ্রামে। সেইজন্য সেখানে যাচ্ছি।”

‘আমি রাজনীতিক নই’: তৃণমূলের অভিযোগের জবাব

রাজ্যপাল সমান্তরাল সরকার চালানোর চেষ্টা করছেন—এই অভিযোগ তুলে তৃণমূল বারবার সরব হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে আনন্দ বোস বলেন, “তৃণমূল মানে গ্রাস রুট। আর গ্রাস রুট মানে সাধারণ মানুষ। আমি সেই তৃণমূলের কাছে যাচ্ছি। এতে অসুবিধার কী রয়েছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে তিনি রাজনীতিক নন এবং রাজনীতির জন্যই এই বিরোধিতা করা হচ্ছে।