খেলতে গিয়ে ভয়ংকর পরিণতি! সাড়ে তিন বছরের শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন, প্রতিবেশী পিশাচের কঠোর সাজা

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বালুরঘাট থানা এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর পকসো মামলায় মাত্র এক বছরের মধ্যেই বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ঐতিহাসিক রায় দিল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্পেশাল পকসো আদালত। সাড়ে তিন বছরের এক শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতনের অপরাধে অভিযুক্ত এক প্রতিবেশীকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক অনিন্দিতা গাঙ্গুলি। বুধবার এই কঠোর ও দ্রুত রায়দানের ফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিগৃহীতা শিশুর পরিবার ও আইনি মহল।

আদালত সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল গত ২০২৫ সালের ১৬ অক্টোবর। বালুরঘাট থানা এলাকার একটি গ্রামে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ির সামনে রাখা একটি টোটোর পাশে খেলছিল সাড়ে তিন বছরের ওই নিষ্পাপ শিশুটি। অভিযোগ ওঠে, খেলার ছলেই শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালায় সেই প্রতিবেশী ব্যক্তি। খেলা শেষে শিশুটি যখন নিজের বাড়িতে ফিরে আসে, তখন থেকেই সে অসুস্থ বোধ করতে শুরু করে। পরিবারের কাছে সে তার গোপনাঙ্গে তীব্র যন্ত্রণার কথা জানায়। এরপর পরিবারের লোকজন তাকে আদর করে জিজ্ঞেস করলে সে ঘটনার সমস্ত বিবরণ তাদের খুলে বলে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়ে শিশুর পরিবার। দ্রুত বালুরঘাট থানার দ্বারস্থ হন তাঁরা এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তৎপরতার সঙ্গে তদন্তে নামে বালুরঘাট থানার পুলিশ। সমস্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তীতে মামলাটি স্থানান্তরিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা স্পেশাল পকসো আদালতে।

মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলাকালীন প্রসিকিউশন পক্ষের তরফে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রমাণ এবং সাক্ষ্য আদালতে পেশ করা হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, গত ১ জুলাই এই মামলায় আনুষ্ঠানিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়েছিল। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে সমস্ত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচার প্রক্রিয়া শেষ করে আদালত আজ, বুধবার এই চাঞ্চল্যকর মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করে।

মামলার রায়দান প্রসঙ্গে জেলার সরকারি আইনজীবী সুদীপ রায় চৌধুরী গণমাধ্যমকে জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে বালুরঘাট থানার অন্তর্গত দায়ের হওয়া এই পকসো মামলায় আজ রায়দান করেছেন এডিজে দ্বিতীয় কোর্টের তথা পকসো আদালতের বিচারক অনিন্দিতা গাঙ্গুলি। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে পকসো আইনের ১০ ও ১২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ নম্বর ধারার অপরাধের জন্য তাকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাকে আরও ১ মাসের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। পাশাপাশি, ১২ নম্বর ধারার অপরাধের জন্য তাকে ৩ বছরের সাজা, ৫ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ মাসের জেলের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।

আইনজীবী আরও বলেন যে, ঘটনার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে এই স্পর্শকাতর মামলার নিষ্পত্তি ঘটেছে, যা বিচারব্যবস্থার এক অনন্য নজির। এই দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া দেখে তারা অত্যন্ত আশাবাদী যে, আগামী দিনেও পকসো সংক্রান্ত অন্যান্য মামলাগুলি এইভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি হবে এবং অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবে। সমাজে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আদালতের এই কঠোর বার্তা সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে।