ভারত বিরোধিতায় জল ঢেলে বড় উপহার! বাংলাদেশকে আধুনিক রেকের চালক বানাল নয়াদিল্লি

সব দূরত্ব ও উত্তেজনার আবহকে দূরে সরিয়ে রেখে প্রতিবেশীর আধুনিক যাত্রায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন যতই থাকুক না কেন, বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও উন্নত করতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রেক উপহার দিতে চলেছে নয়াদিল্লি। রেল কোচ ফ্যাক্টরি (RCF), কাপুরথালা থেকে উৎপাদিত ১৯টি এলএইচবি (LHB) ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম রেকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রোল আউট করা হচ্ছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।

রেল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ রেকটিতে থাকছে মোট ১৯টি কোচ। যার মধ্যে ৩টি এসি স্লিপার কার, ৩টি এসি চেয়ার কার, ১১টি নন-এসি চেয়ার কার এবং ২টি পাওয়ার কার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। রাজ্যসভায় পেশ করা এক সরকারি বিবৃতিতে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের রেলের যাত্রী চাহিদা এবং স্থানীয় পরিচালনগত পরিবেশের কথা সম্পূর্ণ মাথায় রেখেই এই কোচগুলির বিশেষ নকশা তৈরি করা হয়েছে। যাত্রীদের দীর্ঘপথের আরাম ও সুরক্ষার জন্য কোচে রাখা হয়েছে উন্নতমানের রিক্লাইনিং চেয়ার, স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট এবং আরামদায়ক ফুটরেস্ট।

কোচগুলির প্রযুক্তিগত দিক ও যাত্রীবান্ধব সুবিধা প্রসঙ্গে জানা যায়, এসি কোচগুলিতে ফ্যান ছাড়াও ইন্টিগ্রেটেড সিসিটিভি ক্যামেরা নজরদারি ব্যবস্থা, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলা যায় এমন জানালা রাখা হয়েছে। বিশেষ সংযোজন হিসেবে থাকছে বেবি কেয়ার রুম এবং প্রেয়ার রুমের সুব্যবস্থা। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট অপারেটিং পরিস্থিতি এবং অতিরিক্ত ভিড়ের কথা মাথায় রেখে ছাদের গঠন অত্যন্ত শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে ব্যস্ত সময়ে ছাদে অতিরিক্ত চাপের কারণে কোনও কাঠামোগত ক্ষতি না হয়। ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী ক্র্যাশওয়ার্দি ডিজাইন যুক্ত এই কোচগুলির বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ভারতীয় রেলের ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪১৫ ভোল্ট অপারেশনের উপযোগী করে বিশেষভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে।

ভারত ও বাংলাদেশের রেল সহযোগিতার এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূত্রপাত হয়েছিল ২০১৫-১৬ সালে। সেই সময়েও কাপুরথালা রেল কোচ ফ্যাক্টরি সফলভাবে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করেছিল। সেই সুসম্পর্কের হাত ধরেই ২০২৪ সালে রাইটস (RITES)-এর মাধ্যমে আরও ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরির বিশাল অর্ডার দেয় বাংলাদেশ রেল। বর্তমান এই নতুন রেকটি সেই বৃহৎ প্রকল্পেরই একটি অংশ। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতীয় রেলের বিশ্বমানের প্রযুক্তি এবং বাংলাদেশ রেলের চাহিদার এই অনবদ্য সমন্বয় দুই দেশের আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করবে।