খেজুরি কাণ্ডে বিস্ফোরক হাইকোর্ট, প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ও ওসি’র কল রেকর্ড তলব

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক এবং বিচারপতি মহম্মদ শব্বার রাশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই ঘটনায় প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, তদন্তকারী অফিসার, খেজুরি থানার ওসি এবং প্রয়োজনে মেলা কমিটির কর্মকর্তাদের মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে আদালতে রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশ নিয়ে বিচারপতি দেবাংশু বসাক কঠোর ভাষায় তার পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দুটি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে যে ভিন্নতা, তা সাধারণ মানুষের বিশ্বাস নষ্ট করে দিচ্ছে। এসএসকেএমের ময়নাতদন্ত রিপোর্টে যখন শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে, তখন প্রথম ময়নাতদন্তে আঘাতের কোনো কথাই উল্লেখ করা হয়নি, যা বিশ্বাসযোগ্য নয়। জনমনে এই ধরনের কাজে কীভাবে আস্থা তৈরি হবে, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।

আদালত এই ঘটনায় রাজ্য সরকারের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তকে নির্দেশ দিয়েছে, প্রত্যক্ষদর্শীদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, যাতে তারা নির্ভয়ে কথা বলতে পারে। সিআইডি’র সিটকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে বলা হয়েছে। একই সাথে, খেজুরি থানার ওসি এবং প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের কল রেকর্ডও তলব করা হয়েছে। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর সিআইডি-কে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

উল্লেখ্য, এই রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় গত ২৬ আগস্ট কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সিআইডিকে একটি সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মৃত বিজেপি কর্মীদের পরিবার সিবিআই তদন্তের আবেদন করে ডিভিশন বেঞ্চে যায়। এরপরই বুধবার হাইকোর্ট এই কড়া পদক্ষেপ নেয়।