খুজুরির জোড়া রহস্যমৃত্যু! ময়নাতদন্তকারী ডাক্তারকে কেন বারবার ফোন? CID-র রিপোর্টে চমকে উঠল হাইকোর্ট!

পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরিতে দুই বিজেপি কর্মীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড়। ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে তদন্তকারী আধিকারিকের বারবার ফোন করা নিয়ে সন্দেহ আরও গাঢ় হয়েছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ কলকাতা হাইকোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, “কেন একজন তদন্তকারী অফিসার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করবেন?”
গত ৩ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি শব্বার রশিদির ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় বিস্ময় প্রকাশ করে। দুই ময়নাতদন্ত রিপোর্টে মতপার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালত জানায়, “দু’টি রিপোর্টে এমন বৈপরীত্য সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ভেঙে দেবে।” মেদিনীপুর মেডিক্যালের প্রাথমিক ময়নাতদন্তে আঘাতের কোনো উল্লেখ ছিল না, অথচ এসএসকেএমের রিপোর্টে স্পষ্ট শারীরিক আঘাতের কথা বলা হয়েছে। এই বৈপরীত্য নিয়েই জনমনে তৈরি হয়েছে আস্থাহীনতা।
কল ডিটেলস ফাঁস!
আদালত এই অসঙ্গতির কারণ জানতে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক, তদন্তকারী আধিকারিক, থানার ওসিসহ সংশ্লিষ্ট সবার মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস পরীক্ষা করার নির্দেশ দেয়। সোমবার সিআইডি-র সিট আদালতে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দেয়। সেই রিপোর্টে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য— ময়নাতদন্তের ঠিক আগে ও পরে একাধিকবার ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসককে ফোন করেছিলেন তদন্তকারী আধিকারিক। এই তথ্য শুনেই আদালত বিস্ময় প্রকাশ করে বলে, “তদন্তকারী অফিসারের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়।”
সিআইডি অবশ্য আদালতে জানায়, ওই কল লিস্টে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি। তাদের দাবি, পুলিশ অফিসারটি অন্য কোনো কারণে ফোন করেছিলেন। কিন্তু এই যুক্তি শুনে আদালত আরও বিরক্ত হয়। বিচারপতি বসাক প্রশ্ন তোলেন, “কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই কীভাবে রাজ্য এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাচ্ছে?”
রাজ্যকে কড়া নির্দেশ
রাজ্য সরকার এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানাতে আরও সময় চাইলে আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করে। আদালত আগামী সোমবারের মধ্যে থানার আইসি-সহ সকলের কল ডিটেলস এবং এই সংক্রান্ত সব নথি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে খেজুরির জোড়া রহস্যমৃত্যু মামলার শুনানি আগামী সপ্তাহে আবারও হবে। এই মামলায় হাইকোর্টের কড়া মনোভাব থেকে স্পষ্ট যে, তারা সত্য উদঘাটনের জন্য কোনো কসুর ছাড়তে রাজি নয়।