খাস মহলের জমিতেই হবে স্থায়ী ঠিকানা! বিহার সরকারের নয়া নীতিতে মিলবে মালিকানা

দশক পেরিয়ে গেলেও নিজস্ব জমির মালিকানা নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা। সেই দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সমাধানে এবার ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে বিহার সরকার। রাজ্যের ১২টি জেলায় খাস মহল জমিতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসবাসকারী বাসিন্দাদের জন্য সরকার নিয়ে আসছে নতুন ‘ফ্রিহোল্ড নীতি’। এই নীতি কার্যকর হলে ওই জমিতে বসবাসকারীরা দীর্ঘদিনের ইজারা বা লিজ নবায়নের ঝক্কি এড়িয়ে সরাসরি স্থায়ী মালিকানার অধিকার পাবেন।
বিহারের রাজস্ব ও ভূমি সংস্কার মন্ত্রী ডঃ দিলীপ কুমার জয়সওয়াল জানিয়েছেন, রাজ্যের ১২টি জেলায় প্রায় ৪,১৯৩ একর খাস মহল জমি রয়েছে। পাটনা, পূর্ণিয়া, কাটিহার, ভাগলপুর, গয়া, মুজাফফরপুর এবং দারভাঙ্গার মতো শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য আকাশচুম্বী। দীর্ঘ ৬০-৭০ বছর ধরে বসবাস করা সত্ত্বেও বাসিন্দারা এতদিন আইনি জটিলতায় মালিকানা পাননি। নতুন নীতিতে একটি ‘এককালীন অর্থপ্রদান’ (One-time payment) ব্যবস্থার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ এই জমি নিজেদের নামে নথিভুক্ত করতে পারবেন। আগামী ১৫ আগস্টের পর জনমতের ভিত্তিতে এই নীতি চূড়ান্ত করা হবে।
বর্তমান নিয়মে, খাস মহল জমির মালিক সরকার। সরকার ৩০, ৬৬ বা ৯৯ বছরের ইজারা প্রদান করে। ফলে জমি বিক্রি, হস্তান্তর বা নির্মাণকাজে প্রশাসনের অনুমতি নিতে হয়, যা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। পূর্ণিয়ার মতো জেলায় খাস মহল জমি নিয়ে বহু বিতর্ক ও অবৈধ লেনদেনের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পূর্ণিয়া শহরেই রয়েছে প্রায় ৮১৩ একর জমি, যেখানে বহু জায়গায় বাণিজ্যিক নির্মাণ ও দোকানপাট তৈরি হয়েছে।
সরকারের এই নতুন নীতির উদ্দেশ্য একদিকে যেমন সাধারণ মানুষকে আইনি সুরক্ষা প্রদান করা, অন্যদিকে ভূমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। অবৈধ দখল ও অপব্যবহারের ফলে যে রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছিল, তা এই নীতির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সরকার মনে করছে, এর ফলে যেমন জমির রেকর্ড সংগঠিত হবে, তেমনই প্রকৃত দখলদাররা আইনি অধিকার ফিরে পাবেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনিশ্চয়তায় ভোগা হাজার হাজার পরিবার এখন নিজেদের সম্পত্তির ওপর পূর্ণ অধিকার পাওয়ার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।