উজ্জ্বলা যোজনা গ্রাহকদের জন্য সতর্কবার্তা! ৩০ জুনের মধ্যে কাজ না করলে বন্ধ হতে পারে ভর্তুকি!

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে সরকার। এলপিজির কালোবাজারি রোধ এবং প্রতিটি ঘরে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রণালয় ‘ন্যাচারাল গ্যাস অ্যান্ড পেট্রোলিয়াম প্রোডাক্টস ডিস্ট্রিবিউশন অর্ডার, ২০২৬’ জারি করেছে। এই আদেশের মূল লক্ষ্য হলো—পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস (PNG) সরবরাহকে প্রাধান্য দেওয়া। কিন্তু এই নতুন নিয়মের বেড়াজালে পড়ে এখন বিপাকে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা।

সরকারের স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী, যে সমস্ত এলাকায় পাইপড ন্যাচারাল গ্যাস বা পিএনজি-র পরিকাঠামো পৌঁছে গেছে, সেখানে আর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাবে না। মার্চ মাসে এই আদেশ জারি করার সময় গ্রাহকদের ৯০ দিনের একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সেই চূড়ান্ত সময়সীমা এখন প্রায় শেষের পথে। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে পরিবারগুলোর এলাকায় পিএনজি সংযোগ নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তারা এলপিজি সিলিন্ডার ধরে রেখেছে, তাদের এলপিজি সরবরাহ খুব শীঘ্রই বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে। আপনি যদি আপনার রেজিস্টার্ড ঠিকানায় পোস্টের মাধ্যমে ৯০ দিনের সময়সীমার নোটিশ পেয়ে থাকেন এবং এখনও পিএনজি-তে স্থানান্তরিত না হয়ে থাকেন, তবে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন। অন্যথায়, রান্নার গ্যাস পেতে সমস্যায় পড়বেন আপনি।

নতুন সংশোধিত এলপিজি নিয়ম অনুযায়ী, পিএনজি সংযোগ পাওয়ার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যেই এলপিজি সিলিন্ডার এবং রেগুলেটর সংশ্লিষ্ট ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে সমর্পণ করতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো গ্রাহক ৬ জুন পিএনজি সংযোগ গ্রহণ করে থাকেন, তবে ৬ জুলাইয়ের মধ্যে তাদের এলপিজি সংযোগটি ফিরিয়ে দিতে হবে। তবে আশার কথা এই যে, যেসব এলাকায় এখনও পিএনজি পরিকাঠামো পৌঁছায়নি, তাদের এলপিজি সংযোগে কোনো পরিবর্তন হবে না এবং তারা আগের মতোই সিলিন্ডার ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ, পরিকাঠামো না থাকলে এলপিজি সরবরাহে কোনো ব্যাঘাত ঘটবে না।

অন্যদিকে, ‘প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা’র উপভোক্তাদের জন্য এলপিজি ই-কেওয়াইসি (eKYC) সম্পূর্ণ করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশন (IOCL) সহ অন্যান্য গ্যাস সরবরাহকারী সংস্থা ভারতগ্যাস এবং এইচপি গ্যাস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ৩০ জুনের মধ্যে ই-কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ না করলে সিলিন্ডারের ভর্তুকি পাওয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করা এখন অত্যন্ত সহজ। গ্রাহকরা ‘IOCL One’ মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে ঘরে বসেই এই প্রক্রিয়া সারতে পারবেন। এছাড়া নিকটস্থ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের কাছে গিয়ে অথবা সিলিন্ডার ডেলিভারি নিতে আসা কর্মীদের সহায়তায়ও এই কাজটি সম্পন্ন করা সম্ভব। ভর্তুকি বজায় রাখতে এবং রান্নার গ্যাস নিয়ে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা এড়াতে নির্ধারিত ৩০ জুনের মধ্যেই এই ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাগুলো। সময়ের কাজ সময়ে করে রাখুন, নতুবা রান্নার গ্যাসের খরচ নিয়ে বড় ঝামেলার মুখে পড়তে হতে পারে আপনাকে।