খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে ট্রাম্পের গোপন উড়ান! ইরানি হুমকির মুখে মার্কিন প্রেসিডেন্টের নাটকীয় বিমান বদল!

ইরানের হিটলিস্টে রয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তাঁকে ‘খুন’ করা হতে পারে—মাসখানেক আগেই এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজে। আর এই আশঙ্কার পরই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র জল্পনা। গত মাসে তুরস্ক থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কাতার থেকে উপহার পাওয়া নিজের বিমানের বদলে তিরিশ বছরের পুরনো একটি বিমানে ফেরার কথা বলে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিক এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অবিশ্বাস্য তথ্য। জানা যাচ্ছে, নিরাপত্তা বেষ্টনী এড়িয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সামরিক বিমানে তোলা হয়েছিল এবং নিরাপত্তার কারণে তাঁকে ফুড ক্যাটেরিং ট্রাকেও লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের একটি প্রতিবেদনে এই গোপন তথ্য ফাঁস হয়েছে।

জানা যায়, ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনের জন্য তুরস্কে যাওয়ার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের দেওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানে ভ্রমণ করেছিলেন। তবে ফেরার পথেই ঘটে আসল নাটক। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের একটি বিমানে তিনি ফিরবেন বলে ক্যামেরার সামনে দৃশ্যত বোর্ডিং করলেও সেটি আদতে ছিল একটি সুপরিকল্পিত ছদ্মবেশী ব্যবস্থা বা ডিকয়। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খাবার পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত বিশেষ একটি কার্ট বা ক্যাটারিং ট্রাকে করে বিমানটির নিচ থেকে সুরক্ষিতভাবে বের করে আনা হয়। পরবর্তীতে গোপন গাড়িতে করে তাঁকে আরেকটি বিমানে স্থানান্তরিত করা হয়। ওই তৃতীয় বিমানে করেই তিনি অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে ব্রিটেনে পাড়ি দেন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কিংবা মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর এই স্পর্শকাতর বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা অভিযানের কথা ফাঁস হয়ে পড়েছে।

অন্যদিকে, মূল টোপ হিসেবে ব্যবহৃত পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান বিমানটিতে সাংবাদিক ও হোয়াইট হাউসের বেশ কয়েকজন কর্মীকে তুলে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইট চলাকালীন প্রেস কেবিনের জানালার পর্দা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সাংবাদিকরা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে তাদের সেই ফ্লাইটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বয়ং উপস্থিত নেই। ট্রাম্পকে বহনকারী আসল বিমানটি পৌঁছানোর মাত্র কয়েক মিনিট পরেই ওই ডিকয় বিমানটি ব্রিটেনে অবতরণ করে। পরবর্তীতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল জানিয়েছিলেন যে তারা একটি অত্যন্ত বিপজ্জনক ফ্লাইটের মধ্য দিয়ে এসেছেন। পাশাপাশি, নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন যে পুরোনো দিনের স্মৃতিচারণ এবং ব্রিটেনের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের উৎসাহিত করতেই তিনি ওই বিমানটি ব্যবহার করেছিলেন। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটি ছিল হামলাকারীদের নজর অন্যদিকে ঘোরানোর একটি নিখুঁত চাল।

তুরস্ক থেকে ট্রাম্পকে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে সরিয়ে নেওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা প্রমাণ করে যে মার্কিন গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ইরানের দিক থেকে আসা হুমকিকে অত্যন্ত গুরুতর এবং বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে করেছিলেন। এর আগে বিখ্যাত সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছিল যে ট্রাম্প যে বিমানেই নিয়মিত যাতায়াত করতেন, সেটিই যেকোনো মুহূর্তে সম্ভাব্য হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু হতে পারত। ট্রাম্পের এই গোপন তৃতীয় বিমানে যাত্রার বিষয়ে মুখ খুলে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক স্টিভ চেউং জানান যে কাতারের দেওয়া বিমানে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা উচ্চপর্যায়ের এসওপি অনুসরণ করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বহু শত্রু প্রেসিডেন্টকে টার্গেট করে রেখেছে এবং এই ধরনের মারাত্মক হুমকি মোকাবিলায় প্রশাসনের হাতে থাকা সমস্ত কৌশলগত ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হয়।

উল্লেখ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৯০ সাল থেকে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী ‘এয়ারফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো বোয়িং ৭৪৭৭ বিমানের জীর্ণ দশা নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। এরপর গত বছর কাতারের রাজপরিবারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে প্রাপ্ত একটি বিলাসবহুল বিমান দ্রুত সংস্কার করে সেটিকে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন তিনি। গত ১ জুলাই প্রথমবারের মতো সেই নতুন বিমানে চড়েই নর্থ ডাকোটায় পৌঁছেছিলেন ট্রাম্প। এর মাত্র কয়েক দিন পর প্রথম বিদেশ সফরে তুরস্কে পাড়ি জমান তিনি। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে এই নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানটি একটি অত্যন্ত অত্যাধুনিক বিমান, যাতে সর্বোচ্চমানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই আধুনিক বিমানকেও সরিয়ে যেভাবে গোপন সামরিক ফ্লাইটে ট্রাম্পকে দেশে ফেরাতে হয়েছে, তাতে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মেঘ আরও ঘনীভূত হয়েছে।