খরিফ শস্য বোনায় ৯২ লক্ষ হেক্টরের বিশাল ঘাটতি, চরম সংকটের মুখে ভারতের কৃষিক্ষেত্র!

বর্ষা এলেও স্বস্তির দেখা নেই কৃষকের। দেশের ৫২ শতাংশ এলাকাই এখনও বৃষ্টির ঘাটতিতে ভুগছে। ‘ডোলাট ক্যাপিটাল’-এর সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ঘাটতি ভারতীয় কৃষিব্যবস্থায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মধ্য ভারতের মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া এবং জলাধারগুলোর জলস্তর তলানিতে ঠেকে যাওয়া উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মৌসুমে এখনও পর্যন্ত ৩৫০.৯ লক্ষ হেক্টর জমিতে খরিফ শস্য বোনা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৯২.০ লক্ষ হেক্টর কম। যদিও গত বছর বর্ষা আগে আসায় চাষের কাজ দ্রুত শুরু হয়েছিল, কিন্তু পাঁচ বছরের স্বাভাবিক গড়ের সঙ্গে তুলনা করলেও এবার ঘাটতির পরিমাণ ২২.৫ লক্ষ হেক্টর। আইএমডি-র তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে সারা দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ৩৮ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে, যার মধ্যে মধ্য ভারতে ঘাটতি ৪৫ শতাংশ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে ৪০ শতাংশ।

ফসলের ওপর এর প্রভাব স্পষ্ট। ধান রোপণের কাজ সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হচ্ছে পূর্ব ভারতে। পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় এবার ধানের চাষ ৬.৩ লক্ষ হেক্টর কম হয়েছে। তৈলবীজ এবং তুলো চাষেও যথাক্রমে ১৭.২ ও ১২.৯ লক্ষ হেক্টরের ঘাটতি লক্ষ্য করা গেছে। তবে আশার কথা হলো, মোটা দানার শস্য এবং ডালের চাষ স্বাভাবিকের চেয়ে বেড়েছে।

দেশের জলাধারগুলোর পরিস্থিতিও বেশ আশঙ্কাজনক। সারা ভারতের জলাধারগুলিতে ধারণক্ষমতার মাত্র ২৬.০ শতাংশ জল রয়েছে। পূর্ব ভারতের অবস্থা সবচেয়ে করুণ, যেখানে জলাধারের জলস্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ২৩.৪ শতাংশ কম (মাত্র ১৯.৪ শতাংশ)।

তবে আবহাওয়া অফিস নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে। মৌসুমি অক্ষরেখা তার স্বাভাবিক অবস্থানে ফিরে আসছে এবং বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে। এর ফলে মধ্য ভারত ও মহারাষ্ট্রে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, যদি এই বৃষ্টির ধারা বজায় থাকে, তবে জুলাইয়ের মাঝামাঝি নাগাদ মাটির আর্দ্রতা ও জলাধারের জলস্তর পুনরুদ্ধার হতে পারে। এখন সবটাই নির্ভর করছে আগামী কয়েক সপ্তাহের আবহাওয়ার ওপর।