কৌশিকী অমাবস্যায় তারাপীঠে কি বন্ধ থাকবে মদের দোকান? তুঙ্গে চর্চা, কারণটা জানেন কি?

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যাকে ঘিরে পবিত্র তারাপীঠ মন্দির ও তার আশপাশের চত্বরে মদের দোকান সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার একটি প্রস্তাব ঘিরে এখন রাজ্যজুড়ে শোরগোল শুরু হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা এবং মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ অক্ষুণ্ণ রাখতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে যে, কৌশিকী অমাবস্যার আগের দিন, মূল অমাবস্যার দিন এবং তার পরের দিন—এই তিন দিন তারাপীঠ এলাকার সমস্ত লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকান পুরোপুরি বন্ধ রাখতে হবে। উল্লেখ্য, এই উন্নয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খোদ অতিরিক্ত জেলাশাসক, তাই তাঁর কাছেই এই প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
হঠাৎ কেন এই মদ বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব?
তারাপীঠের পুরোহিত সজল কুমার ভট্টাচার্য ও মিলন পাণ্ডা এই বিষয়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, কৌশিকী অমাবস্যার পবিত্র তিথিতে দেশ-বিদেশ থেকে দুই ধরনের মানুষের সমাগম ঘটে—একদল আসেন ভক্তিভরে পুজো দিতে, আর অন্যদল আসেন ফূর্তি বা আমোদপ্রমোদ করতে। এই দ্বিতীয় দলের আনাগোনা এবং অতিরিক্ত মদ্যপানের জেরে প্রায়ই এলাকায় বিশৃঙ্খলা ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই ভিড় ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপের দাবি তোলা হয়েছে।
রাজস্ব বনাম শৃঙ্খলা: চিন্তায় প্রশাসন
আবগারি দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি বছর কৌশিকী অমাবস্যার মাত্র এই তিন দিনেই তারাপীঠ চত্বরে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকার মদ বিক্রি হয়। ফলে বিপুল পরিমাণ সরকারি রাজস্বের কথা মাথায় রেখে প্রশাসন শেষ পর্যন্ত এই প্রস্তাবে সায় দেয় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে পবিত্র শক্তিপীঠের ধর্মীয় পরিবেশ বজায় রাখতে মন্দির কমিটি ও উন্নয়ন পর্ষদ এই বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
মায়ের পুজোয় ‘কারণবারি’ দেওয়ার রীতি কি বদলাবে?
মদের দোকান বন্ধ থাকার খবরে স্বাভাবিকভাবেই ভক্তদের মনে প্রশ্ন জেগেছে যে, তবে কি কৌশিকী অমাবস্যায় মা তারার পুজোয় ‘কারণবারি’ নিবেদনের শতাব্দীপ্রাচীন রীতিতেও কোনো পরিবর্তন আসবে?
এই প্রশ্নের জবাবে পুরোহিতরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মায়ের পুজোর কোনো নিয়ম বা রীতি বদলাচ্ছে না। যেভাবে প্রথা মেনে দেবীকে কারণবারি নিবেদন করা হয়, ঠিক সেভাবেই পুজো হবে। দোকান বন্ধ থাকার আগেই পুজোর জন্য প্রয়োজনীয় উপাচার বা মদ নিরাপদ জায়গায় মজুত করে রাখা হবে।
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর কৌশিকী অমাবস্যা। পুণ্যার্থীদের ভিড় সামলানো, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং তারাপীঠের পবিত্র ভাবমূর্তি রক্ষা করার মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে প্রশাসন এই মদের দোকান বন্ধ রাখার প্রস্তাবে চূড়ান্ত কী সিলমোহর দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।