কোভিডের নতুন সংক্রমণ নিয়ে স্বাস্থ্য দফতরের সতর্কতা! আপনার জেলায় কী পরিস্থিতি?

ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনা সংক্রমণ। দীর্ঘ বিরতির পর অন্ধ্রপ্রদেশে নতুন করে কোভিড-১৯ সংক্রমণের খবরে দেশজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত ২০ দিনে অন্ধ্রপ্রদেশ স্বাস্থ্য দফতরের দেওয়া পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ১২ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য মহলে নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
রাজ্য স্বাস্থ্য কমিশনার জি ভিরাপান্ডিয়ান বৃহস্পতিবার এক সরকারি বিবৃতিতে জানিয়েছেন, গত ২৬ জুন থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে এই সংক্রমণের ঘটনাগুলি সামনে এসেছে। মৃতদের মধ্যে ৩ জন কাদাপা জেলার এবং ১ জন কাকিনাড়া জেলার বাসিন্দা। তবে স্বাস্থ্য দফতর আশ্বস্ত করেছে যে, মৃতদের শরীরে কোভিডের পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস এবং কিডনির মতো গুরুতর কোমর্বিডিটি ছিল। অর্থাৎ, সংক্রমণটি তাঁদের শারীরিক জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর অন্ধ্রপ্রদেশে প্রথম কোভিড সংক্রমণ ধরা পড়ে ২৬ জুন, কাদাপা জেলায়। পরবর্তীকালে ১ জুলাই থেকে ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে আরও ১১ জনের শরীরে ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। সংক্রমণের আঞ্চলিক বিন্যাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ৮টি কেস কাদাপা জেলা থেকেই নথিভুক্ত হয়েছে। এছাড়া গুন্টুরে ২টি, বিশাখাপত্তনমে ১টি এবং কাকিনাড়ায় ১টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। কমিশনার আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই সংক্রমণ কোনো নির্দিষ্ট ক্লাস্টারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজ্যের বিভিন্ন মণ্ডল থেকে বিচ্ছিন্নভাবে এই ঘটনাগুলি সামনে এসেছে। আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ২ জন আগে থেকেই সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে ছিলেন।
রাজ্যের কোভিড পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। গত ২৬ জুন থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত মোট ৬৭টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়, যার মধ্যে ১১টি রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। দ্বাদশ আক্রান্ত ব্যক্তিটির সংক্রমণ ধরা পড়েছে তামিলনাড়ুর ভেলোরের বিখ্যাত ক্রিশ্চিয়ান মেডিক্যাল কলেজে (CMC)।
পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন স্বাস্থ্য আধিকারিকরা। কোভিড বিধি পালনের পাশাপাশি স্বাস্থ্য দফতর সাধারণ মানুষকে পরামর্শ দিয়েছে, জ্বর, কাশি বা শ্বাসকষ্টের মতো সামান্যতম উপসর্গ দেখা দিলেই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে এবং প্রয়োজনে কোভিড পরীক্ষা করাতে। রাজ্য সরকার জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং মোকাবিলায় যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পূর্ণ রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, যাঁদের শরীরে অন্য কোনো জটিল রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভাইরাস সংক্রমণ এড়াতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।