বৃহস্পতিবার রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। কিন্তু বুথে যাওয়ার আগেই চরম অব্যবস্থা আর ক্ষোভের মুখে নাজেহাল ভোটকর্মীরা। বুধবার সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন ডিসিআরসি (DCRC) সেন্টারে পর্যাপ্ত খাবার, যাতায়াত এবং পারিশ্রমিক নিয়ে তৈরি হলো নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেল প্রশাসন।
ডোমকলে ‘ভাতা’ চুরি? ক্ষোভে ফুঁসছেন কর্মীরা
মুর্শিদাবাদের ডোমকল ডিসিআরসি সেন্টারে বুধবার দুপুরে আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে পড়েন ভোটকর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রাপ্য ডিউটি ভাতার একটি বড় অংশ বেআইনিভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ: যাঁদের ২৬৩০ টাকা পাওয়ার কথা ছিল, তাঁদের দেওয়া হয়েছে ২১০০ টাকা। অনেকের ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ ১১৭০-১৩৭০ টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।
পরিস্থিতি: ক্ষোভে কাজ বন্ধ করে দেন কর্মীরা। শেষমেশ এসডিও (SDO) শুভঙ্কর বালা ও বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন।
তমলুকে প্রখর দাবদাহে অসুস্থ ভোটকর্মীরা
ভোটের ডিউটির চেয়েও বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে রোদের তেজ। তমলুকের ডিসিআরসিতে পর্যাপ্ত পানীয় জল ও ছাউনির অভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন একাধিক মহিলা কর্মী। অভিযোগ, অসুস্থদের জন্য দীর্ঘক্ষণ অ্যাম্বুল্যান্স ডেকেও পাওয়া যায়নি। যদিও জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার পরে প্যান্ডাল খোলা এবং স্বাস্থ্য আধিকারিকদের নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন।
বীরভূমে পথ অবরোধ, দুর্গাপুরে ‘ভুল’ তলব
বীরভূম: সিউড়িতে রামপুরহাট বা নলহাটি যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত বাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ ভোটকর্মীরা ১৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন। দীর্ঘক্ষণ গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
দুর্গাপুর: এখানে বিএলও (BLO) কর্মীদের চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। শত শত কর্মীকে ডেকে আনার পর প্রশাসন জানায়, ‘ভুলবশত’ তাঁদের তলব করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট বসার জায়গা বা কাজের রূপরেখা না পেয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা।
মমতার নিশানায় ‘সাঁজোয়া গাড়ি’
ভোটের এই ডামাডোলের মধ্যেই আমডাঙা থেকে সুর চড়িয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ভোটে যুদ্ধের সাঁজোয়া গাড়ি কেন? মানুষকে এত ভয় কিসের?” সব মিলিয়ে প্রথম দফার এই মেগা লড়াইয়ের ঠিক কয়েক ঘণ্টা আগে রাজ্যের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তৈরি হলো।





