পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই একের পর এক দুর্নীতি ও তদন্তের গতিপ্রকৃতি এক ধাক্কায় অনেকটাই বদলে গেছে। তবে এবার যে বিষয়টি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে, তা এককথায় নজিরবিহীন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (Enforcement Directorate) সূত্রে খবর, তৃণমূলের নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বে থাকা সংস্থা আই-প্যাক (I-PAC)-এর অর্থ লেনদেনের তদন্তে প্রায় ২,৭৪২ কোটি টাকার এক বিশাল আর্থিক কেলেঙ্কারি বা স্ক্যাম সামনে এসেছে। অভিযোগ, এই দুর্নীতির তদন্ত প্রক্রিয়ায় খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাধা সৃষ্টি করেছিলেন এবং আই-প্যাক অফিসে তল্লাশির সময় ফাইলও সরিয়ে ফেলা হয়েছিল।
এই কেন্দ্রীয় তদন্তের সূত্র ধরেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা নয়ছয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তুলে সুর চড়াতে শুরু করেছে বর্তমান শাসকদল বিজেপি। বিজেপি শিবিরের দাবি, রাজকোষের টাকা এবং বিভিন্ন দুর্নীতির কালো টাকা ঘুরপথে আই-প্যাকের মতো সংস্থায় ব্যবহার করা হয়েছে।
এদিন দলের এক প্রথম সারির হেভিওয়েট নেতা প্রকাশ্যেই তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “বাংলায় এতদিন যে মেগা দুর্নীতি চলেছে, তার সব সুতো গিয়ে মিশেছে কালীঘাটে। আইনের হাত থেকে এবার আর কেউ রেহাই পাবেন না। আই-প্যাকের অর্থ তছরুপের সঠিক তদন্ত হলে খুব শীঘ্রই জেলের ভাত খেতে হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে।”
অন্যদিকে, এই মারাত্মক অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি, রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করার পর এখন কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে এবং মিথ্যে অপবাদ দিয়ে দলনেত্রীকে কালিমালিপ্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে সুপ্রিম কোর্টও ইতিমধ্যেই তদন্তে রাজ্যের হস্তক্ষেপ নিয়ে কড়া পর্যবেক্ষণ দেওয়ায় এই টাকা নয়ছয়ের মামলাটি আগামী দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় আইনি সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।





