কোচবিহারে শুভেন্দুর কনভয়ে হামলার পর, বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনার মাত্র দু’দিন পরেই কোচবিহারে ফের রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এবার দিনহাটার নাজিরহাট-২ পঞ্চায়েত এলাকায় এক পঞ্চায়েত সদস্যসহ চার বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় এক অন্তঃসত্ত্বা মহিলা গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে কোচবিহার এমজেএন মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মাতৃমাতে ভর্তি করা হয়েছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ২০-২৫ জনের একটি তৃণমূল আশ্রিত দল লোহার রড ও শাবল নিয়ে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য যুথিকা বর্মন, প্রাক্তন মণ্ডল সভাপতি তরণী বর্মন, শক্তি প্রমুখ জিতেন্দ্রনাথ বর্মন এবং মহিলা মোর্চার সভানেত্রী মালা বর্মনের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়ির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং বাইক বাহিনী নিয়ে মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ।

এই হামলায় জিতেন্দ্রনাথ বর্মনের অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে পূরবী গুরুতর আহত হয়েছেন। পূরবীর মা জয়ন্তী বর্মন অভিযোগ করেছেন, মেয়েকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে হুমকি দেওয়া হয়। বর্তমানে পূরবী কোচবিহার মাতৃমাতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় রাতে বিধায়ক মালতি রাভা রায় হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নেন।

আক্রান্ত বিজেপি নেতা তরণী বর্মন বলেন, “বিজেপি করার অপরাধেই আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে।” যদিও তৃণমূল নেতা উদয়ন গুহ এই বিষয়ে বলেন, “বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি খোঁজ নিয়ে দেখব।” ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও, গোলমালের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল।

গত মঙ্গলবার খাগড়াবাড়িতে শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় উদয়ন গুহ এবং ঘোকসাডাঙ্গা এলাকার তৃণমূল নেতা ধরনীকান্ত বর্মনসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছিল। সেই এফআইআরে নাম থাকায় ধরনীকান্ত বর্মন বিজেপি নেতা প্রশান্ত বর্মনকে ফোন করে হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এই দুটি ঘটনায় কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।