কোচবিহার জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মোড়। সোমবার গভীর রাতে ঘোকসাডাঙা থানার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেন কোচবিহার জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি প্রশান্ত বর্মণ। তাঁর পাড়াডুবির বাসভবন থেকে তল্লাশি চালিয়ে একটি আগ্নেয়াস্ত্র এবং এক রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার ধৃত নেতাকে আদালতে তোলা হলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেকে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ বলে দাবি করেন। তবে প্রশান্ত বর্মণের গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে চলছে রাজনৈতিক তরজা। কোচবিহার জেলা তৃণমূল সহ-সভাপতি আবদুল জলিল আহমেদের মতে, রাজ্যে পালাবদলের কারণেই এই ধরনের পরিকল্পিত গ্রেফতারি ঘটছে। অন্যদিকে, বিজেপির কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ বর্মণের স্পষ্ট বক্তব্য, “পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তার নিজের কাজ করছে। আইন আইনের পথে চলবে।”
প্রশান্ত বর্মণের এই গ্রেফতারি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই কোচবিহার জেলায় তৃণমূলের একাধিক দাপুটে নেতার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে পুলিশ। এর আগে কোচবিহার-২ ব্লকের ব্লক তৃণমূল সভাপতি, এক কাউন্সিলর এবং বেশ কয়েকজন পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যকে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাটমানি থেকে শুরু করে ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনা—তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ছে বিভিন্ন থানায়। গ্রেফতারি এড়াতে ইতিমধ্যে বহু তৃণমূল নেতা গা-ঢাকা দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে একাধিক পুরনো ও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। বছরখানেক আগে ঘোকসাঙাঙায় তৎকালীন বিজেপি বিধায়ক সুশীল বর্মণের ওপর হামলা এবং তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলেন তিনি। এছাড়া গত বছর মে মাসে বিধানসভার তৎকালীন বিরোধী দলনেতা তথা বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার ঘটনায় পুলিশের খাতায় নাম ছিল এই যুব তৃণমূল নেতার। এতদিন শাসক দলের ছায়ায় থেকেও তিনি রেহাই পেলেও, পালাবদলের পর আইন নিজের রূপ দেখাতে শুরু করেছে।
কোচবিহার জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন আধিকারিক জানিয়েছেন, আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট পুরনো অভিযোগগুলোকেও সামনে আনা হচ্ছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রশান্ত বর্মণের এই গ্রেফতারি কোচবিহারের তৃণমূল সংগঠনে বড়সড় ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কাটমানি এবং পুরনো রাজনৈতিক হিংসার মামলায় একের পর এক নেতার গ্রেফতারি ঘাসফুল শিবিরকে যে চরম অস্বস্তিতে ফেলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।





