১৩,৪২১ শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু, আবেদন করবেন কারা, ইন্টারভিউয়ে নম্বর বিভাজন কেমন?

রাজ্যে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ আগেই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল এবং বুধবার, ১৯ নভেম্বর থেকে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়া রাজ্যের টেট (TET) উত্তীর্ণ যোগ্য প্রার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে।
📅 আবেদনের সময়সীমা ও ইন্টারভিউ
| বিবরণ | সময়সীমা/তারিখ |
| আবেদন শুরু | বুধবার, ১৯ নভেম্বর, দুপুর ৩টে |
| আবেদনের শেষ তারিখ | ৯ ডিসেম্বর |
| ইন্টারভিউয়ের সম্ভাব্য সময় | ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহ |
🎓 কারা আবেদন করতে পারবেন?
সহকারী শিক্ষক পদে চাকরির জন্য TET উত্তীর্ণ যোগ্য প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন, যাঁরা ২০১৪, ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৩ সালের প্রাথমিক টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। আবেদন করতে হবে অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে।
বয়সসীমা: ১ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের নিরিখে আবেদনকারীর বয়স ৪০ বছরের মধ্যে হতে হবে।
বিশেষ সুবিধা: কর্তব্যরত শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্যারা টিচারদের ক্ষেত্রে সরাসরি যুক্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূন্যপদ রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনায়, এবং সবচেয়ে কম শূন্যপদ রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরে।
📊 ইন্টারভিউয়ে মোট নম্বর ও বিভাজন (৫০ নম্বর)
এবারের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ইন্টারভিউ-সহ মোট ৫০ নম্বরের বিভাজন এমনভাবে করা হয়েছে, যাতে প্রার্থীর অ্যাকাডেমিক রেকর্ড, প্রশিক্ষণ এবং মৌখিক পরীক্ষায় দক্ষতার প্রতিফলন ঘটে।
| ক্ষেত্র | নম্বর |
| মাধ্যমিকের রেজাল্ট | ৫ |
| উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট | ১০ |
| NCTE ট্রেনিং (ডিএলএড/বিএড) | ১৫ |
| টেট পরীক্ষার রেজাল্ট | ৫ |
| এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাক্টিভিটিস | ৫ |
| অ্যাপটিটিউড টেস্ট | ৫ |
| ইন্টারভিউয়ের প্রশ্নোত্তরে দক্ষতা | ৫ |
| মোট | ৫০ |
🔒 স্বচ্ছতা নিশ্চিতে পর্ষদের কড়াকড়ি
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার দিকে বিশেষ জোর দিচ্ছে। দুর্নীতি ও জালিয়াতি রুখতে একাধিক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে:
ভিডিওগ্রাফি: ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া চলাকালীন সম্পূর্ণ ভিডিওগ্রাফি করা হবে।
কম্পিউটারে নম্বর: ইন্টারভিউ শেষে চাকরিপ্রার্থীদের নম্বর সরাসরি কম্পিউটারে নথিভুক্ত করা হবে, কাগজে লেখা হবে না। ফলে ‘কে কত পেলেন’ তা গোপন রাখা হবে।
নথি যাচাই: জাল সার্টিফিকেট রুখতে মোট তিন দফায় নথি যাচাই (Document Verification) করা হবে।
এই কঠোর প্রক্রিয়াগুলি নিয়োগে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।