‘কেন মিথ্যা বলছেন?’,-আরজি কর দুর্নীতি মামলায় সিবিআইকে তীব্র ভর্ৎসনা, গাফিলতির অভিযোগ

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে দুর্নীতি মামলার বিচার প্রক্রিয়া মঙ্গলবার আলিপুরের বিশেষ আদালতে শুরু হয়েছে। তবে প্রথম দিনেই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক এবং সিবিআই-এর আইনজীবীকে আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হল। সম্পূর্ণ নথি ছাড়াই আদালতে উপস্থিত হওয়ার কারণে বিচারক ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং ভবিষ্যতে এমন গাফিলতি হলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের ওএসডি সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। আদালত সিবিআই-এর কাছে মামলার ‘আসল অভিযোগপত্র’ দেখতে চাইলে, সিবিআই-এর আইনজীবী জানান যে টালা থানায় জমা পড়া অভিযোগপত্রটি এদিন আদালতে উপস্থিত রেকর্ডে নেই।

বিচারক এই গুরুত্বপূর্ণ নথি না থাকার কারণ জানতে চাইলে, সিবিআই-এর তদন্তকারী অফিসার জানান যে রেকর্ড অন্য আদালতে থাকতে পারে এবং তিনি আদালতের কাছে সময় চেয়ে নেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিচারক বলেন, “কেন মিথ্যা বলছেন? রেকর্ড কেন আনা হলো না? কাস্টডিয়াল ট্রায়াল শুরু হয়েছে। এই ধরনের খামখেয়ালিপনা বা অজুহাত বরদাস্ত করা হবে না।” অভিযুক্ত পক্ষের আইনজীবীও আসল অভিযোগপত্র ছাড়াই বিচার প্রক্রিয়া শুরুর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

আদালত এদিন সিবিআইকে কড়া ভাষায় সতর্ক করে দেয়। বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী অফিসারের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনা মামলার প্রথম দিনেই সিবিআই-এর প্রস্তুতি এবং পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

উল্লেখ্য, আরজি কর দুর্নীতি মামলায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরপর ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর এই মামলায় চার্জশিট পেশ করা হয়। মূলত আরজি করের এক ডাক্তারি ছাত্রীর ধর্ষণ ও খুনের মামলার আবহে এই আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগগুলি সামনে আসে। আরজি করেরই প্রাক্তন সুপার আখতার আলি, সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন, যা এই মামলার সূত্রপাত।