কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? জল্পনার মধ্যেই এল রহস্যময় প্রতিক্রিয়া!

রাজ্য রাজনীতিতে তখন তোলপাড়। তৃণমূলের অন্দরে ভাঙন আর এনসিপিআই (NCPI)-তে যোগদানের ঘটনার মধ্যেই আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এল। সূত্রের খবর, এনডিএ (NDA) সরকারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন বর্ষীয়ান তৃণমূল সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শর্মিলা সরকার। জল্পনা তুঙ্গে যে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন। এমন আবহে নিজের মন্ত্রিত্ব পাওয়া নিয়ে মুখ খুললেন খোদ সুদীপবাবু।

ঠিক কী বলেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? এই জল্পনার মাঝে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে তিনি কিছুটা কৌশলী উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান, তাঁকে নাকি ‘করতালি দিয়ে অভিবাদন’ জানাতে বলা হয়েছিল। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সংক্ষিপ্ত ও রহস্যময় মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ধোঁয়াশা তৈরি করেছে। তিনি সরাসরি মন্ত্রিত্বের খবর স্বীকার না করলেও, যেভাবে পরিস্থিতি এগোচ্ছে, তাতে তাঁর দিল্লির মসনদে বসার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল।

দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দে নতুন সমীকরণ: তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআই-এর পথ বেছে নেওয়ার পরেই যে সমীকরণ তৈরি হয়েছে, তাতে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বিদ্রোহী নেতাদের সুসম্পর্ক এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সূত্রের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে আসা নেতাদের এই ‘পুরস্কার’ দিতেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় তাঁদের স্থান দেওয়া হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো পোড় খাওয়া রাজনীতিকের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগদান কেবল একটি প্রশাসনিক রদবদল নয়, বরং এটি বাংলার রাজনীতির ক্ষমতার ভারসাম্য বদলে দেওয়ার ইঙ্গিত। একদিকে যখন তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই দলবদলকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে দেখছে, ঠিক তখনই দিল্লির অলিন্দে সুদীপবাবুকে নিয়ে এমন জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।

এখন দেখার বিষয়, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে শপথগ্রহণের মঞ্চে সত্যিই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখা যায় কি না।