পশ্চিমবঙ্গের ভোটের ময়দান মানেই কি পেশিশক্তির আস্ফালন? আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এমনই এক বিতর্কিত ও বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি-র নবনিযুক্ত রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তার সাফ কথা, “পশ্চিমবঙ্গে কোনো ভোট নিরামিষ হয় না।”
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যের নির্বাচনী পরিবেশ এবং শাসক দলের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন। তার মতে, এ রাজ্যে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন চলে, তা সারা ভারত জানে।
শমীকের নিশানায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচনী প্রহসন
বিজেপি রাজ্য সভাপতি এদিন অভিযোগ তোলেন যে, রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে ভোট করানো হলেও আখেরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হয় না। তিনি বলেন:
“পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে ভোট হয় সবাই জানে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তো বাইরে রাখা হয়, কিন্তু বুথের ভিতরে ভোটার এবং বিরোধীদের ওপর কীভাবে অত্যাচার চালানো হয়, তার সাক্ষী গত নির্বাচনগুলো।”
কেন এমন ‘নিরামিষ’ তকমা?
শমীক ভট্টাচার্যের এই ‘নিরামিষ ভোট’ না হওয়ার মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্যের দীর্ঘ রাজনৈতিক হিংসার ইতিহাস। বিজেপি-র দাবি, ভোট ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই বিরোধী কর্মীদের ওপর হামলা, বুথ দখল এবং রক্তপাতের ঘটনা বাংলায় নিয়মিত রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এই পুরো প্রক্রিয়াটিকেই কটাক্ষ করে তিনি একে ‘আমিষ’ বা ‘রক্তাক্ত’ ভোট বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।
ভোটের আগে সরগরম রাজনীতি
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রস্তুতি যখন শুরু হয়েছে এবং সম্প্রতি রাজ্য বিজেপি-র নতুন কমিটি ঘোষিত হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে সভাপতির এমন হুঙ্কার রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। শমীকের এই মন্তব্যের পর এখনও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া না গেলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে— আগামী দিনগুলোতে রাজ্যের নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে শাসক-বিরোধী তরজা আরও তুঙ্গে উঠবে।





