কৃষক আন্দোলন নিয়ে টুইট! কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা চলবে, আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

কৃষক আন্দোলন (Farmer’s Protest) নিয়ে বিতর্কিত টুইট করার অভিযোগে অভিনেত্রী এবং বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাউতের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মানহানির মামলাটি বাতিল করার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি বিক্রম নাথ এবং সন্দীপ মেহতার একটি বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
শুনানির সময় বিচারপতি সন্দীপ মেহতা কঙ্গনার মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “এটা শুধু একটি রি-টুইট নয়। আপনি নিজস্ব মন্তব্য যোগ করে এতে আরও বেশি করে মশলা ঢালছেন।” কঙ্গনার আইনজীবী যখন বলেন যে, তার মক্কেল এই মন্তব্যের জন্য স্পষ্টীকরণ দিয়েছেন, তখন বিচারপতি জানান যে সেই স্পষ্টীকরণ নিম্ন আদালতে (ট্রায়াল কোর্ট) দেওয়া যেতে পারে।
আদালত কঙ্গনার আইনজীবীকে আরও সতর্ক করে জানায় যে, যদি তারা বেশি তর্ক করেন, তাহলে এমন কিছু মন্তব্য করা হতে পারে যা ট্রায়ালে তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দেবে। এর ফলে কঙ্গনার আবেদন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং মামলাটি খারিজ করা হয়।
২০২১ সালে কৃষক আন্দোলনের সময় কঙ্গনা রানাউত এক প্রবীণ মহিলা প্রতিবাদী মহিন্দর কৌরকে নিয়ে একটি পোস্ট রি-টুইট করেন এবং তাতে নিজের মন্তব্য যোগ করেন। কঙ্গনা ভুলভাবে মহিন্দর কৌরকে শাহিন বাগ আন্দোলনের বিলকিস দাদির সঙ্গে সম্পর্কিত করে লিখেছিলেন, “এই সেই দাদি, যিনি টাইম ম্যাগাজিনে সবচেয়ে শক্তিশালী ভারতীয় হিসেবে ফিচারড হয়েছিলেন… আর ইনি ১০০ টাকায় পাওয়া যায়।” এই টুইটে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে প্রতিবাদীরা ভাড়া করা লোক।
এই ঘটনার পর মহিন্দর কৌর কঙ্গনার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন। প্রাথমিক তদন্তের পর ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জানান যে, কঙ্গনার টুইটটি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় একটি অপরাধ। কঙ্গনা প্রথমে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে মামলা বাতিলের আবেদন করেছিলেন, কিন্তু সেই আবেদনও খারিজ হয়ে যায়। হাইকোর্ট জানিয়েছিল, ‘সৎ উদ্দেশ্যে’ টুইট করার কঙ্গনার যুক্তি ট্রায়াল কোর্ট বিবেচনা করবে।