গণবিক্ষোভে বিধ্বস্ত নেপাল! স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারি ভবন পুড়ে ছাই, নিহত ৩২

গণবিক্ষোভের জেরে নেপাল জুড়ে এখন শুধুই ধ্বংসের ছবি। স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-মুখপাত্র ডঃ সমীর কুমার অধিকারী এবং তার দল পরিস্থিতি পরিদর্শন করে একটি রিপোর্ট তৈরি করেছেন। দুই দিন আগে শুরু হওয়া Gen Z বিক্ষোভের তাণ্ডবে নেপালের একাধিক সরকারি ভবন সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।
বিক্ষোভকারীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভবনটিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিয়েছে। এমনকি একটি চেয়ারও সেখানে অক্ষত নেই। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্ত্রণালয় প্রাঙ্গণে পার্ক করা ২৫টিরও বেশি গাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, অন্যান্য প্রধান সরকারি সংস্থা এবং একাধিক থানা-ও ব্যাপক ক্ষতির শিকার হয়েছে। কর্মকর্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এই পরিস্থিতিতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটলে তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে, কারণ কাজ চালানোর মতো কোনো অবকাঠামো আর অবশিষ্ট নেই।
১৯৬৫ সালে নির্মিত এই ভবনটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত স্থপতি লুই আই কান-এর নকশায় তৈরি হয়েছিল। এটি স্থাপত্যশৈলীর একটি অনন্য নিদর্শন ছিল এবং একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প সহ্য করেছিল। কিন্তু এবারের আন্দোলনে তা সম্পূর্ণভাবে ভস্মীভূত হয়েছে।
স্বাস্থ্য জরুরি অপারেশন সেন্টার (HEOC) এখন বীর হাসপাতালের একটি ছোট কক্ষ থেকে তাদের কাজ পরিচালনা করছে। তারা জানিয়েছে, এই বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত এবং ১,০৮১ জন আহত হয়েছেন। ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্থানে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত চলছে। ফরেনসিক বিভাগ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ২৫ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে ৬ জনের পরিচয় এখনও অজানা। মৃতদের মধ্যে অনেকেই পুলিশের গুলিতে মারা গেছেন বলে জানা গেছে।