‘আমি পাঠান, গুলি করতে হলে কর!’ আন্ডারওয়ার্ল্ডের বন্দুকের নলের সামনে দাঁড়িয়ে কিং খানের সেদিনের জবাব শুনলে রক্ত গরম হয়ে যাবে!

নব্বইয়ের দশকে যখন আন্ডারওয়ার্ল্ডের রক্তচক্ষু ও মাফিয়াদের চাঁদাবাজির আতঙ্কে কাঁপছিল গোটা মুম্বই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি, সেই বিপজ্জনক সময়েও গ্যাংস্টারদের সমস্ত অন্যায্য প্রস্তাব সোজা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন দিনের এমনই কিছু রোমহর্ষক ও অজানা স্মৃতিচারণ করেছেন বিশিষ্ট পরিচালক সঞ্জয় গুপ্ত।

তৎকালীন সময়ে ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির ওপর আন্ডারওয়ার্ল্ডের দৌরাত্ম্য ঠিক কতটা ভয়াবহ ছিল, তা স্পষ্ট করে পরিচালক জানান যে নব্বইয়ের দশকে গ্যাংস্টারদের মূল লক্ষ্য ছিলেন তারকারাই। সেসময় ফিল্ম সিটিতে এক পাঞ্জাবি অভিনেতাকে খুন করা হয়, মণীশা কৈরালার সেক্রেটারিকে অফিসে ঢুকে গুলি করে মারা হয় এবং পরিচালক রাকেশ রোশনের ওপরেও প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছিল। সেই পর্বে বলিউডের বহু প্রথমসারির অভিনেতা-অভিনেত্রীই মাফিয়াদের চাপের মুখে বাধ্য হয়ে তাঁদের ইচ্ছামতো সিনেমার চুক্তিতে সই করতেন।

তবে সেই চরম আতঙ্ক ও প্রাণনাশের হুমকির পরিবেশেও ব্যতিক্রমী ছিলেন শাহরুখ খান। সঞ্জয় গুপ্তের দাবি অনুযায়ী, পুরো ইন্ডাস্ট্রির মধ্যে একমাত্র তিনিই গ্যাংস্টারদের হুমকির সামনে একচুলও মাথা নোয়াননি। মাফিয়াদের তরফে কোনও সিনেমার অফার বা শো করার চাপ এলে শাহরুখ অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় তাঁদের জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আমি কোনওদিন তোমাদের ছবি বা শো করব না। আমি পাঠান, গুলি মারতে চাও তো মেরে দাও। আমি তোমাদের ভয় পাই না, কিন্তু তোমাদের সঙ্গে কাজ করব না।”

শাহরুখের এই লৌহকঠিন সাহস ও অনড় মনোভাব শেষপর্যন্ত মাফিয়াদের মনেও একধরণের শ্রদ্ধার জায়গা তৈরি করেছিল। শুধু সঞ্জয় গুপ্ত একা নন, এর আগে পরিচালক ফারাহ খান ও করণ জোহরের বক্তব্যেও ৯০-এর দশকের সেই ত্রাস ও হুমকির চিত্রটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ‘ডুপ্লিকেট’ বা ‘কুচ কুচ হোতা হাই’-এর প্রিমিয়ারের সময়েও করণ জোহরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সমস্ত আশঙ্কা ও মৃত্যুর ভয়কে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়ে নিজের নীতি এবং সাহসিকতায় ভর করে একা হাতে যেভাবে তৎকালীন আন্ডারওয়ার্ল্ডের সিন্ডিকেটকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন শাহরুখ, তা আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক রূপকথার মতো অনুপ্রেরণা হয়ে রয়েছে।