“কুষ্ঠ রোগের বাড়বাড়ন্ত! ঘরে ঘরে সমীক্ষা চালিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮ ব্লকে ৮০ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত— আপনার এলাকায় কী পরিস্থিতি?”

কুষ্ঠ রোগের ক্রমবর্ধমান সংখ্যা রাজ্যে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এই রোগকে প্রাথমিক স্তরে চিহ্নিত করে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনতে বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। এই সমীক্ষাগুলো কুষ্ঠ নির্মূল কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮ ব্লকে ৮০ জন সন্দেহভাজন
সাম্প্রতিক এই রোগ চিহ্নিতকরণের অভিযানে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। সেপ্টেম্বর মাসে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার আটটি ব্লকে আশাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়েছিলেন। তাঁদের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ৮০ জন ব্যক্তির এই রোগ থাকার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৭০। চিকিৎসকরা মনে করছেন, নতুন করে শনাক্ত হওয়া এই গ্রামবাসীদের অনেকের শরীরেই কুষ্ঠের জীবাণু পাওয়া যাবে, সেক্ষেত্রে কুষ্ঠ রোগের সার্বিক সংখ্যা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও আশাকর্মীদের ভূমিকা
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক মুক্তিসাধন মাইতি এই প্রসঙ্গে বলেন, “অনেককেই সন্দেহ করা হয়েছে। এটা এক দিক দিয়ে ভালো। কারণ দ্রুত এই রোগ চিহ্নিতকরণ করে চিকিৎসা শুরু করে দেওয়া যাবে।”
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কুষ্ঠ রোগ হয়েছে কিনা, তা প্রথমে অনেকেই বুঝতে পারেন না। সাদা ছোপ ছোপ দাগ, পায়ের নীচে বা হাতে বারবার ফোস্কা পড়া এক প্রকার এই রোগের লক্ষণ। গ্রামের দিকে অনেকেই এসব লক্ষণ দেখেও অবহেলা করেন, যা পরে বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে যায়। এই কারণেই বাড়ি বাড়ি অভিযান না চালানো হলে এত সংখ্যক সন্দেহজনক রোগী ধরা পড়ত না।
সমীক্ষা কীভাবে কাজ করে?
বাড়ি বাড়ি সমীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো কুষ্ঠের লক্ষণযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা এবং তাদের দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা, যা রোগের বিস্তার রোধে গুরুত্বপূর্ণ।
শনাক্তকরণ: স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্বকের অসাড়তা বা অন্যান্য ত্বকের পরিবর্তনগুলি চিহ্নিত করেন।
দ্রুত চিকিৎসা: শনাক্তকৃত রোগীদের দ্রুত মাল্টি-ড্রাগ থেরাপির (MDT) মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়, যা রোগের বিস্তার রোধ করতে সাহায্য করে।
এই ধরনের অভিযান কুষ্ঠ রোগ সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে এবং আক্রান্তদের সময়মতো চিকিৎসা দিতে সাহায্য করে, যা রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।