তারাতলা কাণ্ডে সাঁড়াশি চাপে ফিরহাদ হাকিম! প্রাক্তন মেয়রকে গ্রেফতারের দাবিতে সরব কুণাল ঘোষ

তারাতলা কারখানা ধসের মর্মান্তিক ঘটনার রেশ না কাটতেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন বিস্ফোরণ। এই ঘটনায় সরাসরি প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের নাম জড়িয়ে পড়ায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই অভিযোগের প্রমাণ বিধানসভায় পেশ করায়, এবার দলের অন্দরেই প্রবল চাপে পড়লেন ফিরহাদ। বৃহস্পতিবার এই ঘটনায় প্রাক্তন মেয়রকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিলেন বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
ফিরহাদের দিকে আঙুল গত ১৭ জানুয়ারি, ফিরহাদ হাকিম যখন মেয়র ছিলেন, সেই সময়েই তারাতলার ওই ধসে পড়া গোডাউনের নকশা অনুমোদিত হয়েছিল। বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই এই নথিপত্র পেশ করে প্রাক্তন মেয়রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভায় দাঁড়িয়ে যে মন্তব্য করেছেন, তাকেই হাতিয়ার করে কুণাল ঘোষ দাবি তুলেছেন, প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার খাতিরে এখন যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
কুণালের বিস্ফোরক দাবি তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সাফ জানিয়েছেন, “তদন্তে যদি প্রাক্তন মেয়রের নাম উঠে আসে এবং তাঁর দায় থাকে, তবে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করা হোক। শুধুমাত্র ছোটখাটো কর্মীদের গ্রেফতার করে দায় এড়ানো যাবে না।” কুণাল আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ফিরহাদ হাকিম বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ফলেই দলের অভ্যন্তরে তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী যখন বিধানসভায় নাম নিয়েছেন, তখন তাঁর বক্তব্যের মান্যতা দিতেই হবে। এই ঘটনার তদন্তে কোনো ‘বড় মাথা’ যাতে রেহাই না পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।”
রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তারাতলার ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যুর পর এখন পুরো বিষয়টি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে। একদিকে সরকার যখন এই বিপর্যয়ের তদন্ত নিয়ে কড়া অবস্থান নিচ্ছে, তখন দলেরই এক বিধায়কের মুখে ফিরহাদ হাকিমের গ্রেফতারির দাবি তৃণমূলের অন্দরের কোন্দলকে আরও প্রকট করে তুলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারাতলা কাণ্ড কেবল একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি এখন মমতা-অভিষেক বনাম বর্তমান শাসক দলের সংঘাতের এক অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে ওঠা এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়।