জরুরি অবস্থার ৫১তম বর্ষপূর্তি, ভারতের গণতন্ত্রের অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণ করে কড়া বার্তা মোদী-জয়শঙ্করের

১৯৭৫ সালের ২৫ জুন। ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক কালো অধ্যায়। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ফখরুদ্দিন আলি আহমেদের জারি করা জরুরি অবস্থা নাগরিক স্বাধীনতা এবং সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপর এক নজিরবিহীন আঘাত ছিল। সেই অন্ধকার সময়ের ৫১তম বর্ষপূর্তিতে আজ সরব হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তাঁরা প্রত্যেকেই সেই সময়কার গণতান্ত্রিক সংগ্রামের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি আবেগঘন পোস্টে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার স্মৃতি রোমন্থন করেন। তিনি লেখেন, “আজ জরুরি অবস্থা ঘোষণার বর্ষপূর্তিতে সেই কঠিন সময়ের কথা মনে পড়ছে, যা ভারতের গণতন্ত্রের সহনশীলতাকে চরম পরীক্ষার মুখে ফেলেছিল। যাঁরা সেই দুঃসময়ে সাংবিধানিক মূল্যবোধ ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য রুখে দাঁড়িয়েছিলেন, আমি তাঁদের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানাই।” জয়শঙ্করের মতে, জরুরি অবস্থার ইতিহাস আমাদের প্রতিদিন মনে করিয়ে দেয় যে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা এবং তার যত্ন নেওয়া কতটা জরুরি।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জরুরি অবস্থাকে সংবিধানের ওপর “সরাসরি আক্রমণ” বলে অভিহিত করেছেন। ৫১তম বর্ষপূর্তিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজ আমরা ভারতের ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণ করছি। জরুরি অবস্থা ছিল আমাদের সংবিধানের ওপর এক সরাসরি আক্রমণ। সেই সময়ে নাগরিক স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেওয়া হয়েছিল এবং রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক ও সমাজকর্মীদের কুখ্যাত MISA আইনের অধীনে বন্দি করা হয়েছিল।”
মোদী আরও বলেন, জরুরি অবস্থার সময় অগণিত সাধারণ নাগরিকের অসাধারণ সাহসিকতা দেখা গিয়েছিল, যাঁরা ভয় না পেয়ে সংবিধানের আদর্শকে উঁচিয়ে ধরেছিলেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “আমাদের সংবিধান ১৪০ কোটি ভারতবাসীর আকাঙ্ক্ষা, অধিকার এবং কর্তব্যের প্রতীক। আমরা সাংবিধানিক মূল্যবোধ রক্ষার জন্য আমাদের সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করছি। সংবিধানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা এমন একটি ভারত গড়ব, যা ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা, সাম্য এবং ভ্রাতৃত্বের প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
উল্লেখ্য, ১৯৭৫ সালের ২৫ জুন থেকে ১৯৭৭ সালের ২১ মার্চ পর্যন্ত এই জরুরি অবস্থা বলবৎ ছিল। তৎকালীন সরকারের ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’-এর অজুহাতে জারি করা সেই জরুরি অবস্থার সেই দিনগুলি আজও ভারতীয় রাজনীতিতে এক বড় বিতর্কের বিষয়। প্রধানমন্ত্রী এবং বিদেশমন্ত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দিল যে, দেশের গণতন্ত্র রক্ষায় অতীতের শিক্ষা থেকে বর্তমান সরকার কতটা সতর্ক।