কুকুরের মুখোশ পরে সোজা কালেক্টরেটে! মধ্যপ্রদেশের খণ্ডবার এই অভিনব প্রতিবাদের ভিডিও দেখে চমকে যাবেন

একেবারে অভিনব ও নজিরবিহীন প্রতিবাদ! ঘড়ির কাঁটায় তখন মধ্যপ্রদেশের খণ্ডবা জেলা কালেক্টরেট চত্বরে জনশুনানির ব্যস্ত সময়। আচমকাই উপস্থিত সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিক—সকলের চোখ আটকে গেল এক অদ্ভুত দৃশ্যে। মাথায় কুকুরের মুখের আদলে বানানো মুখোশ, গায়ে রোমশ পোশাক এবং সম্পূর্ণ কুকুরের বেশে হেঁটে আসছেন এক ব্যক্তি! তাঁর ঠিক পিছনেই কয়েক জন ক্ষুব্ধ নাগরিক।

শহরে পথকুকুরের লাগামহীন উপদ্রব এবং বন্ধ্যাকরণ প্রকল্পের কোটি টাকার দুর্নীতির প্রতিবাদেই মধ্যপ্রদেশের খণ্ডবায় এই অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী থাকল রাজ্য রাজনীতি। খণ্ডবা পুরনিগমের বিরোধী দলনেতা দীপক ‘মুল্লু’ রাঠোরের নেতৃত্বে এই অভিনব বিক্ষোভ কর্মসূচিটি সূচিত হয়। প্রতিবাদস্থলে বিরোধীদের জোরালো দাবি, শহরের সাধারণ মানুষকে কুকুরের কামড় থেকে রক্ষা করতে প্রশাসন সম্পূর্ণ ব্যর্থ। বিরোধী দলনেতা দীপক রাঠোর পোশাক পরা ওই ব্যক্তিকে দেখিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে ব্যঙ্গের সুরে বলেন, “উনি দিল্লি থেকে এসেছেন। আমাদের এই ‘ডগি ভাই’ খণ্ডবার কুকুরের প্রতিনিধি হয়ে নিজের প্রাণের আর্জি জানাতে এসেছেন।” ওই ব্যক্তি অবশ্য খুব বেশি কথা বলেননি, তবে ভিড়ের মাঝে তাঁকে আকুল আবেদন করতে শোনা যায়, “সাহাব, বাঁচাও!”

বিক্ষোভকারীরা খণ্ডবায় পথকুকুরের কামড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ভয়াবহ আতঙ্কের কথা তুলে ধরেন। পুর প্রশাসনিক তথ্যের উল্লেখ করে বিরোধী দলনেতা জানান, পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। গত চার বছরে শুধু খণ্ডবা শহরেই ১৩,২২৫ জন মানুষ কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছেন। এর পাশাপাশি সরকারি টাকা নয়ছয়ের গুরুতর অভিযোগও উঠেছে। পুরনিগম নাকি গত চার বছরে কুকুর বন্ধ্যাকরণের নামে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। কিন্তু এত টাকা খরচ করা সত্ত্বেও শহরে একটিও পথকুকুর কমেনি, উল্টে কুকুরের কামড়ের ঘটনা লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে।

তীব্র আন্দোলনের মুখে পড়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) কাশিরাম বাডোলের হাতে লিখিত স্মারকলিপি তুলে দেন ওই কুকুরের পোশাক পরিহিত ব্যক্তি। অভিযোগে স্পষ্ট দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে পথকুকুর বন্ধ্যাকরণের খরচের সম্পূর্ণ হিসাব প্রকাশ করতে হবে, ক’টি কুকুরের অস্ত্রোপচার হয়েছে তার নিরপেক্ষ অডিট করতে হবে এবং প্রশাসনিক দুর্নীতিতে যুক্ত ঠিকাদার ও আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর তদন্ত চালাতে হবে। এডিএম কাশিরাম বাডোলে অবশ্য অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন। ততক্ষণে অবশ্য কুকুরের পোশাক পরা ওই ব্যক্তির ভিডিও সমাজমাধ্যমে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি যতই হাস্যরস বা কৌতূহল জোগাক না কেন, তা শহরের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।