‘কুল’ ইমেজই আসল! সরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে জেন জি-র মন জয় করার চরম দাওয়াই দিলেন নির্মলা সীতারামন

দেশের আর্থিক পরিকাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিয়ে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলিকে আমূল বদলে ফেলার পরামর্শ দিলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। পুরোনো ও গম্ভীর ভাবমূর্তি সম্পূর্ণ ঝেড়ে ফেলে দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জি (Gen Z) প্রজন্মের কাছে আরও বেশি আধুনিক, আকর্ষণীয় ও ইউজার-ফ্রেন্ডলি হয়ে ওঠার ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তিনি। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত ‘পিএসবি কনফ্লুয়েন্স ২০২৬’-এর সমাপনী দিনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, বর্তমানের তরুণ সমাজ ঐতিহ্যবাহী সরকারি ব্যাঙ্কের তুলনায় বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে অনেক বেশি পছন্দ করছে। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন যে, তরুণ প্রজন্ম বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির কার্যপদ্ধতিকে অনেক বেশি ‘কুল’ এবং প্রযুক্তিনির্ভর বলে মনে করে। এই ব্যবধান ঘুচিয়ে সরকারি ব্যাঙ্কগুলিকেও এবার সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের তৈরি করার জোরালো তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
তরুণদের মনের ভাষা বুঝতে এবং তাদের ব্যাংকিং প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকারি ব্যাঙ্কগুলিকে সরাসরি জেন জি-র সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। তবে এই আধুনিকীকরণের প্রক্রিয়া চলাকালীন ব্যাংকিং খাতের কঠোর বিধিমালা, আর্থিক নিরাপত্তা এবং কমপ্লায়েন্স স্ট্যান্ডার্ডের সঙ্গে যাতে কোনোভাবেই আপস করা না হয়, সে বিষয়েও তিনি কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এই উদ্দেশ্যে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে একটি মাসব্যাপী বিশেষ ‘ব্যাংকিং ফর ইয়ুথ’ প্রচারাভিযান শুরু করার রূপরেখা প্রস্তাব করেছেন সীতারামন। এই ক্যাম্পেইনের মূল লক্ষ্য হলো ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী দেশের তরুণ সমাজকে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত করা। এই উদ্যোগ কেবল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার গণ্ডির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং কলেজ জীবন থেকে শুরু করে কর্মজীবনের প্রতিটি ধাপে তরুণদের বিশ্বস্ত আর্থিক অংশীদার হয়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই পরিকল্পনাকে সফল করতে ব্যাঙ্কগুলিকে প্রথাগত শাখাভিত্তিক পরিষেবার বাইরে বেরিয়ে সরাসরি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ভোকেশনাল ও দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র এবং বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে তরুণদের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেন জি প্রজন্মকে আকর্ষণ করার জন্য অভিনব সব সুযোগ-সুবিধার পসরা সাজানোর প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। এর মধ্যে অনলাইন সার্টিফিকেশন কোর্স, বিভিন্ন স্কিল ট্রেইনিং প্রোগ্রাম, ফিটনেস ও যোগা সেন্টারের এক্সক্লুসিভ ডিসকাউন্ট কুপন এবং মানসিক স্বাস্থ্য বা ওয়েলনেস প্ল্যাটফর্মের মতো আকর্ষণীয় লাইফস্টাইল সুবিধাও অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। পাশাপাশি, ব্যাংক শাখাগুলিতে বিশেষভাবে ‘যুব কিয়স্ক’ এবং ‘যুব ব্যাংকিং মিত্র’ নামে ডেডিকেটেড কাউন্টার খোলার কথা বলা হয়েছে, যেখানে তরুণরা অত্যন্ত সহজে নিজেদের আর্থিক চাহিদা ও আধুনিক ব্যাংকিং পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেতে পারে।
শুধু তাই নয়, ব্যবসা শুরু করতে ইচ্ছুক তরুণদের জন্য সঠিক ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখা, সহজ শর্তে ঋণ এবং বিভিন্ন সরকারি ঋণ প্রকল্প সম্পর্কে সচেতনতামূলক তথ্য সরবরাহের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এই দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির মূল লক্ষ্য হলো, দেশের তরুণদের প্রথম ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা থেকে শুরু করে প্রথম চাকরি বা ব্যবসার প্রথম আয় এবং দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপে সরকারি খাতের ব্যাঙ্কগুলি যেন তাদের জীবনের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে ওঠে।