কিষেণজির ভাই ভেনুগোপাল রাও সহ ৬৮ মাওবাদীর চাকরি পাকা! আত্মসমর্পণকারীদের কর্মসংস্থান দিল মহারাষ্ট্রের এই সংস্থা

দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে এক বিরাট সাফল্য এনে মঙ্গলবার ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মাওবাদী)-র কৌশলী ও মতাদর্শী নেতা মল্লোজুলা ভেনুগোপাল রাও ওরফে ভূপতি ওরফে সোনু সহ ৬৮ জন মাওবাদীর ঐতিহাসিক আত্মসমর্পণ ঘটেছে। কিষেণজির ভাই ভূপতি সহ এই ৬৮ জনের সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসাকে মাওবাদি নির্মূল করার লক্ষ্যে বিরাট জয় হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় শাসকদল ও নিরাপত্তা বাহিনী।

এই আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের চাকরি দিতে এবার এগিয়ে এল মহারাষ্ট্রের শিল্প সংস্থা Lloyds Metals & Energy (LMEL)।

মুখ্যমন্ত্রীর ধন্যবাদ ও কর্মসংস্থানের প্রস্তাব
মাওবাদী নেতা ভূপতিদের আত্মসমর্পণ গ্রহণ এবং ভারতের সংবিধান হস্তান্তর করার সময় মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ LMEL-এর ম্যানেজিং ডিরেক্টর বি প্রভাকরণকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, “৬১ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীকে প্রশিক্ষণ এবং পরে তাঁরা চাইলে সেখানে কাজ করতে দেবে লয়েডস মেটালস।”

জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্র সরকার এবং গড়চিরোলি পুলিশের সমন্বয়ে LMEL এখনও পর্যন্ত পূর্ববর্তী ৬৮ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীকে কর্মসংস্থান প্রদান করেছে। এছাড়াও মাওবাদী হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ১৪ জন সদস্য সহ মোট ৮২ জনকে ইতিমধ্যেই চাকরি দিয়েছে সংস্থাটি।

দক্ষতা-ভিত্তিক পুনর্বাসন মডেল
আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীরা বর্তমানে সংস্থার প্রশাসন, সিভিল-নির্মাণ কাজ এবং যান্ত্রিক কার্যক্রমের মতো বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিভাগে কর্মরত রয়েছেন। যাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা রয়েছে, তাদের জন্য LMEL একটি দক্ষতা-ভিত্তিক পুনর্বাসন মডেল তৈরি করেছে। কনসারির প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রযুক্তিগত এবং পরিচালনাগত দক্ষতা অর্জন করে এখন তাঁরা কোম্পানির অন্যান্য কর্মীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছেন।

আঞ্চলিক অর্থনীতিতে LMEL-এর প্রভাব
চলতি বছরের জুলাই মাসে মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ কনসারিতে LMEL-এর প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রেটেড স্টিল প্ল্যান্টের ভূমিপুজো এবং ৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ স্লারি পাইপলাইন ও লৌহ আকরিক গ্রাইন্ডিং ইউনিটের উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পগুলি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করে অতিরিক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

LMEL-এর উদ্যোগের মাধ্যমে, এল টি গন্ডোয়ানা স্কিল হাব প্রাইভেট লিমিটেড-এর মাধ্যমে কোম্পানিটি ২০২৫ সালের জুলাই মাসের শেষ নাগাদ প্রায় ১,৪০০ স্থানীয় যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মীকরণ করেছে। একসময় শিল্প বিকাশের জন্য চ্যালেঞ্জিং অঞ্চল হিসেবে বিবেচিত গড়চিরোলি জেলা এখন উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় এবং আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।