কাশ্মীর ইস্যুর মধ্যে ঐতিহাসিক চুক্তি, ভারত-পাক উত্তেজনার পারদ কি এবার আরও চড়বে?

ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান এবং সৌদি আরব একটি ‘কৌশলগত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ সই করেছে। বুধবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধে এই চুক্তিতে সই করেন সৌদি যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এই চুক্তি অনুযায়ী, যদি কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হয়, তবে তা দুই দেশের উপর ‘আগ্রাসন’ হিসেবে গণ্য হবে।

বৃহস্পতিবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই চুক্তির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত সরকার এই চুক্তি সম্পর্কে অবগত আছে এবং এর ‘প্রভাব’ গভীরভাবে খতিয়ে দেখবে। তিনি বলেন, “আমরা সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরের খবর দেখেছি। দীর্ঘদিন ধরে এই দুই দেশের মধ্যে এমন একটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছিল, সে বিষয়ে সরকার সচেতন ছিল।” তিনি আরও জানান, এই চুক্তির ফলে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার উপর কী প্রভাব পড়বে, ভারত তা খতিয়ে দেখবে।

সৌদি আরব এবং পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা কয়েক দশকের পুরনো। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসলামাবাদ সৌদি সামরিক বাহিনীর ৮,২০০ জনেরও বেশি সদস্যকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই দেশ একাধিক যৌথ সামরিক মহড়াও পরিচালনা করেছে।

এই চুক্তিকে ‘দীর্ঘদিনের আলোচনার’ ফল বলে অভিহিত করে সৌদি আরবের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই চুক্তি কোনো সাম্প্রতিক সংঘাত বা দেশকে মাথায় রেখে করা হয়নি। যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয় যে, চুক্তির আওতায় পাকিস্তান সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র দিতে বাধ্য কিনা, তখন তিনি কূটনৈতিক ভাষায় বলেন, “এটি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা চুক্তি, যেখানে সামরিক সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত আছে।”

তবে এই চুক্তি ভারতের জন্য নতুন মাথাব্যথার কারণ হতে পারে। কারণ কিছুদিন আগেই ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কাশ্মীর ইস্যুতে চার দিনের যুদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু একই সাথে ওই সৌদি কর্মকর্তা জানান, ভারতের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক আগের চেয়েও মজবুত এবং তারা এই সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্প্রতি সৌদি আরব সফর করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করেছেন।