কালীঘাটের ৪৪০ কোটির ৩ অ্যাকাউন্টে হাইকোর্টের ‘তালা’, খরচ নিয়ে বড় ধাক্কা তৃণমূলের!

কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা নিয়ে বড়সড় আইনি গেরোয় শাসকদল। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি শেষে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য এক গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দিয়েছেন। এখন থেকে দলের এই বিশাল অঙ্কের টাকার লেনদেনের ওপর নজরদারি চালাবেন একজন স্পেশ্যাল অফিসার।

হাইকোর্টের নির্দেশে কী কী থাকছে?

  • স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগ: অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুব্রত তালুকদারকে স্পেশ্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত করা হয়েছে। দলের যে তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ১৯ জুন প্রথম দফায় ফ্রিজ করা হয়েছিল, এখন থেকে সেগুলোর ওপর নজর রাখবেন তিনি।

  • খরচের রাশ: তৃণমূল কংগ্রেসের ইচ্ছামতো টাকা তোলার দিন শেষ। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, আপাতত শুধুমাত্র দলের জরুরি দৈনন্দিন খরচ চালানো যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭টি কার্যালয়ের মাসিক ভাতা, ২১৫ জন কর্মীর বেতন এবং এজেন্সি নিযুক্ত কর্মীদের পাওনা।

  • মিটিং-মিছিলের খরচে বাধা: রাজনৈতিক সভা বা ২১ জুলাইয়ের মতো বড় অনুষ্ঠানের জন্য এখন থেকে অনায়াসে তহবিল ব্যবহার করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দলের ২ জন সিগনেটারি অথরিটি চেক পাঠাবেন স্পেশ্যাল অফিসারের কাছে। তিনি খতিয়ে দেখার পরই কাউন্টার সই করলে তবেই টাকা তোলা সম্ভব হবে।

  • সময়সীমা: ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা বহাল থাকবে। প্রথম দফায় ফ্রিজ হওয়া ৩টি অ্যাকাউন্টের ওপর নজরদারি থাকলেও, পরবর্তী সময়ে ফ্রিজ হওয়া আরও ৫টি অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজই থাকছে।

পটভূমি: বিধাননগর সাইবার থানায় বেসুরো তৃণমূল বিধায়কদের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশের নির্দেশে কালীঘাট তৃণমূলের ৩টি বেসরকারি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছিল। পরে আরও ৫টি অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রেও একই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ডেবিট ফ্রিজ খোলার আবেদন জানিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল। তবে আদালত সরাসরি ফ্রিজ না তুলে বরং স্পেশ্যাল অফিসার নিয়োগের মাধ্যমে দলের খরচের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পথ বেছে নিয়েছে।

আদালতের এই পর্যবেক্ষণে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়েছে, কারণ ২১ জুলাইয়ের সমাবেশের মতো বড় রাজনৈতিক কর্মসূচির আগে দলের তহবিলের ওপর এই নিয়ন্ত্রণ তৃণমূলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।