বাংলায় এখন ডাবল ইঞ্জিন সরকার। আর সেই পরিবর্তনের ঢেউয়ে রাজ্যে পুরোদমে চালু হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারের অন্যতম উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য পরিবারগুলি বছরে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস বা বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। তবে প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করলেই হবে না, সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে কড়া নিয়ম ও যোগ্যতার মাপকাঠি। সামান্য ভুলে আপনার আবেদনও বাতিল হয়ে যেতে পারে।
আবেদন বাতিল হওয়ার প্রধান কারণসমূহ: National Health Authority (NHA) পরিচালিত এই প্রকল্পে উপভোক্তাদের ভেরিফিকেশনের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। মূলত যে তিনটি কারণে বেশিরভাগ আবেদন বাতিল হয়: ১. আধারের তথ্যে গড়মিল: আধার কার্ডের নাম, ঠিকানা বা জন্মতারিখে সামান্য ভুল থাকলে আবেদন বাতিল হতে পারে। ২. ডুপলিকেট রেজিস্ট্রেশন: একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম নথিভুক্ত করার চেষ্টা। ৩. আয়ের ভুল তথ্য: পরিবারের আয়ের সপক্ষে সঠিক তথ্য বা প্রমাণ না দিতে পারলে আবেদন খারিজ হবে।
কারা পাবেন না এই সুবিধা? আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য। তাই নির্দিষ্ট কিছু শর্ত থাকলে এই সুবিধা পাওয়া যাবে না:
যে পরিবারের সদস্যরা নিয়মিত আয়কর (Income Tax) দেন।
পরিবারের কোনো সদস্য যদি সরকারি স্থায়ী চাকরিজীবী হন।
যাঁদের বড় পাকা বাড়ি বা নির্দিষ্ট ধরণের দামি গাড়ি ও ভারী ট্র্যাক্টর রয়েছে।
৫ একরের বেশি সেচযুক্ত জমির মালিক।
উচ্চ আয়ের ব্যবসায়ী বা বড় অকৃষি ব্যবসার মালিক।
যে পরিবার ইতিমধ্য়ে অন্য কোনো সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা নিচ্ছে।
ভেরিফিকেশনে কড়াকড়ি: বর্তমানে আয়ুষ্মান ভারতের ক্ষেত্রে ডাটাবেস ভেরিফিকেশন এবং ডিজিটাল অথেনটিকেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের তথ্য যদি রেশন কার্ড বা অন্যান্য সরকারি নথির সঙ্গে হুবহু না মেলে, তবে সেই আবেদন গ্রহণ করা হয় না। তবে স্বস্তির খবর এই যে, ৭০ বছরের বেশি বয়সী প্রবীণদের ক্ষেত্রে নথিপত্র ও যোগ্যতার কিছু মাপকাঠিতে বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও উন্নত করতে এবং ‘স্বাস্থ্য সাথী’ ও ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্পকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নিয়ে যেতে দফায় দফায় বৈঠক করছে প্রশাসন। তাই আপনিও যদি এই ৫ লক্ষ টাকার বিমার সুবিধা পেতে চান, তবে আধার কার্ড ও রেশন কার্ডের তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং আয়ের সঠিক বিবরণ দেওয়া জরুরি।





