কামানের গর্জনে কেঁপে উঠল বিষ্ণুপুর! ১০২৯ বছরের প্রাচীন রীতি মেনে মহাসপ্তমীর সকালে গর্ভগৃহে প্রবেশ করলেন দেবী

কামানের গর্জনে সপ্তমীর সকালে এক ভিন্ন আবহে মেতে উঠল মল্লগড় বিষ্ণুপুর। টানা তিন দফা কামানের শব্দের মধ্যেই শতাব্দী প্রাচীন রীতিনীতি মেনে রাজবাড়ির মৃন্ময়ী মন্দিরের গর্ভগৃহে প্রবেশ করলেন মেজ ঠাকুরানী মহালক্ষ্মী এবং ছোট ঠাকুরানী মহাসরস্বতী। এই বিরল ঐতিহ্যের সাক্ষী থাকতে এদিন হাজারো দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছিলেন।

শব্দই যেখানে ‘ব্রহ্ম’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মল্লরাজাদের এই পুজো ১০২৯ বছরেরও বেশি সময় ধরে একই নিয়মে পালিত হয়ে আসছে। এই পুজোর একাধিক নিয়ম বর্ণিত আছে নারায়ণী পুঁথিতে। এই ঐতিহ্যবাহী পুজোয় শব্দকে ‘ব্রহ্ম’ জ্ঞান করে পুজোর প্রতিটি প্রতিক্ষণে কামান দাগা হয়। আজও সেই প্রথা মেনেই তিন দফা কামান দাগার পর দেবী মহালক্ষ্মী ও মহাসরস্বতীকে গর্ভগৃহে প্রবেশ করানো হয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ঠিক ১৩ দিন আগে, অর্থাৎ জিতা অষ্টমীর পরের দিন, একইভাবে বড় ঠাকুরানী মহাকালী প্রবেশ করেছিলেন বিষ্ণুপুরের রাজবাড়ি সংলগ্ন মৃন্ময়ী মন্দিরের গর্ভগৃহে। এদিন মহাসপ্তমীর দিনে রাজপরিবারের নিয়ম মেনে সম্পন্ন হলো মেজ ও ছোট ঠাকুরানীর প্রবেশ পর্ব।

ভিড় জমল মৃন্ময়ী মন্দির চত্বরে
রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী পুজো এবং তার বিশেষ নিয়মকানুন দেখতে এদিন ভিড় ছিল পর্যটকদেরও। ইতিহাস, ঐতিহ্য আর ধর্মীয় আবহ মিলিয়ে বিষ্ণুপুরে মহাসপ্তমীর সকাল কাটল একেবারে ভিন্ন ও প্রাণবন্ত আবহে। এই প্রাচীন প্রথা আর আচারের সাক্ষী হতে দূর দূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় করেন মৃন্ময়ী মন্দির চত্বরে।