মুর্শিদাবাদের কান্দি শহরে ফের একবার সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মঙ্গলবার সকাল থেকে কান্দির জেমোর বিশ্বাসপাড়ায় পুলিশ কর্তা শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের প্রাসাদোপম বাসভবনে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর আধিকারিকরা তল্লাশি শুরু করেছেন। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে এলাকা কার্যত নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে। সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা বাড়ির চারপাশ ঘিরে রেখেছেন, ফলে কোনো বহিরাগত বা সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের বাড়ির কাছাকাছি যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
উল্লেখ্য, মাত্র কয়েক দিন আগেই গত শুক্রবার ইডি এই বাড়িতেই প্রথম দফায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই অভিযানের রেশ কাটতে না কাটতেই মাত্র চার দিনের ব্যবধানে পুনরায় কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের এই আগমন স্থানীয় মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের ধারণা, প্রথম দফার তল্লাশিতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা সূত্র ইডির হাতে এসেছে, যা যাচাই করার জন্য দ্বিতীয় দফার এই অভিযান অপরিহার্য ছিল। তদন্তকারী সংস্থা আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না দিলেও, সূত্রের খবর অনুযায়ী, আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে ধৃত শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিপুল সম্পত্তি এবং লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখছেন আধিকারিকরা।
বর্তমানে শান্তনু সিনহা বিশ্বাস ইডি হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং আর্থিক অনিয়মের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে চলা এই ম্যারাথন তল্লাশিতে বাড়ির অন্দরে থাকা একাধিক ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক নথি এবং সম্পত্তির দলিলপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারী দলের সদস্যরা বাড়ির সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেছেন বলে খবর। তবে এই অভিযানে ঠিক কী কী নথিপত্র উদ্ধার হয়েছে, তা নিয়ে তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তকে কেন্দ্র করে কান্দির রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র উত্তেজনা। বিরোধী দলগুলির দাবি, এই দুর্নীতি কাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হোক এবং দোষীরা শাস্তির আওতায় আসুক। অন্যদিকে, রাজ্যের শাসকদলের একাংশের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচন কিংবা রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তদন্তের জাল যত গড়াচ্ছে, ততই কান্দির এই পুলিশ কর্তার আর্থিক দুর্নীতির বিষয়টি রাজ্যের নজর কেড়েছে। এখন দেখার, ইডির এই দ্বিতীয় দফার তল্লাশি থেকে কোন নতুন তথ্য বেরিয়ে আসে যা মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।





