কাকু নেই, তবুও তাঁর স্বপ্ন পূরণে ব্রতী তিন বোন! পুজোয় কেন গরিবদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন কাজল-রানিরা?

প্রত্যেক বছর যিনি হইহই করে চারদিক মাতিয়ে রাখতেন, মুম্বইয়ের মুখার্জি বাড়ির দুর্গাপূজা এবার তাঁর অনুপস্থিতিতে যেন বিষণ্ণ। প্রয়াত কাকা দেব মুখোপাধ্যায়কে স্মরণ করে চোখে জল এল তিন বোন কাজল, রানি মুখোপাধ্যায় এবং তানিশা মুখোপাধ্যায়ের। চলতি বছর মার্চ মাসে দেবের প্রয়াণ হওয়ায়, এবারের উদযাপন তাঁর কোলাহল, স্মৃতি এবং আবেগের মিশ্রণ বহন করছে।
দেব ছিলেন পরিচালক অয়ন মুখোপাধ্যায়ের বাবা এবং কাজল-রানির কাছে তিনি ছিলেন কন্যাসম। প্রতি বছরই তাঁদের একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠার দৃশ্য চাক্ষুষ করতেন অনুরাগীরা। এবার সেই আনন্দ যেন কিছুটা হলেও ফিকে।
“উত্তেজনাতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে”
এক সাক্ষাৎকারে কাজলের বোন তানিশা মুখোপাধ্যায় জানান, দেব ছিলেন পরিবারের সেই সদস্য যিনি প্রতি বছর পুজো মণ্ডপের আয়োজনের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধে সামলাতেন। তাঁর না থাকার বেদনা প্রকাশ করে তানিশা বলেন:
“এটা আমাদের পরিবারের জন্য দুঃখের সময়। উত্তেজনাতেও কিছুটা ভাটা পড়েছে, কারণ এই বছরে আমাদের পরিবারে তিনটি মৃত্যু ঘটেছে। আমাদের দেবু কাকা, যিনি প্রতি বছর দুর্গাপুজোর আয়োজন করতেন, আর নেই, তাই এইবার পুজায় উপস্থিত হওয়া আমাদের জন্য কিছুটা কঠিন। তবে আনন্দও আছে, কারণ আমরা তাঁর স্বপ্নকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।”
কাকার ইচ্ছা পূরণে বিশেষ উদ্যোগ
তানিশা আরও জানান, দেব সব সময় আশা করতেন যে প্রতি বছর পুজোর আয়োজন আরও সুন্দর হয়ে উঠবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে জাঁকজমক। তাঁর সেই ইচ্ছাকে সম্মান জানাতে পরিবার এবার কিছু বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে:
“দেব মুখার্জি চেয়েছিলেন দুর্গাপূজার সময় আরও বেশি সংখ্যক মানুষ খাবার পান। তাই এই বছর আমরা উৎসব চলাকালীন সময়ে অনেক মানুষের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছি।”
মুম্বইয়ের অন্যতম আকর্ষণ মুখার্জি পরিবারের এই পুজো। উৎসবের শুরুতেই এই দুই তুতো বোন কাজল এবং রানিকে একসঙ্গে দেখে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন অনুরাগীরা। দু’জনকেই শাড়িতে টুইনিং করতে দেখা যায়। পুজোর মূল পর্ব শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা দুর্গা প্রতিমার সামনে প্রার্থনা করেন। দেব না থাকলেও তাঁর ইচ্ছাপূরণে কোনও খামতি রাখছেন না কাছের মানুষেরা।