কাউন্সিলর গ্রেফতার হতেই বেরিয়ে এল থলের বিড়াল! হরিদেবপুরে জমি দখল ও তোলাবাজির ভয়াবহ অভিযোগ

শনিবার তোলাবাজির অভিযোগে ১২৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারির পরই যেন হরিদেবপুরে অভিযোগের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। এক সময় যিনি এলাকার দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন, সেই কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে খোদ পুলিশকর্মী—সকলেই মুখ খুলতে শুরু করেছেন। জমি দখল, কাজ আটকে টাকা আদায় এবং প্রোমোটারকে জমি দেওয়ার জন্য চাপ—কাউন্সিলরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে এমনই সব গুরুতর অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

হরিদেবপুরের বাসিন্দা কলকাতা পুলিশের সার্জেন্ট জিতেন চক্রবর্তী দীর্ঘ সাত বছর ধরে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন। ২০১৯ সালে সখেরবাজারে নিজের জমি কেনার পর থেকেই তিনি কাউন্সিলর সুদীপ পোল্লের অনুগামীদের নিশানায় পড়েন। অভিযোগ, তাঁদের কাছ থেকেই চড়া দামে মাটি কিনতে বাধ্য করা হতো। দাম বেশি হওয়ায় জিতেনবাবু তা কিনতে অস্বীকার করতেই বন্ধ করে দেওয়া হয় জমি ভরাটের কাজ। এমনকি তৎকালীন পুলিশ কমিশনার ও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানিয়েও কোনো সুরাহা মেলেনি বলে দাবি তাঁর স্ত্রী মৌমিতা চক্রবর্তীর। সাত বছর ধরে জমানো টাকা দিয়ে কেনা জমিতে নিজের বাড়ি তৈরির স্বপ্ন আজও অধরা তাঁর কাছে।

অন্যদিকে, প্রাক্তন সেনাকর্মী রামপদ মণ্ডলের অভিজ্ঞতা আরও করুণ। ২০১৩ সালে কেনা জমিতেও একইভাবে থাবা বসায় কাউন্সিলরের অনুগামীরা। মাটি কিনতে বাধ্য করা, বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে বাধা দেওয়া এবং নিয়মিত প্রোমোটারকে জমি লিখে দেওয়ার জন্য হুমকি—এই ছিল তাঁর রোজকার দিনের সঙ্গী। ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও তিনি তাঁর নিজের জমিতে কাজ শুরু করতে পারেননি। সব মিলিয়ে, সুদীপ পোল্লের গ্রেফতারির পর একের পর এক মানুষ সাহস পাচ্ছেন এবং হরিদেবপুর থানায় অভিযোগের সারি ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন, জনপ্রতিনিধি হয়ে মানুষের সুরক্ষার বদলে কেন তাঁকে মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাতে হতো? বর্তমানে পুলিশ এই সবকটি অভিযোগ খতিয়ে দেখছে এবং কাউন্সিলর ও তাঁর অনুগামীদের কর্মকাণ্ডের তদন্ত শুরু করেছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy