কল সেন্টারের আড়ালে হাওয়ালার কারবার? নিউটাউনে পুলিশের হানা, উদ্ধার গাড়ি ও সোনার ভাণ্ডার!

নিউটাউনের মতো অভিজাত এলাকায় একটি গেস্ট হাউসে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করল বিধাননগর সাইবার ক্রাইম ও টেকনো সিটি থানা। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ রাতভর চালানো এই তল্লাশিতে ২ কোটি টাকারও বেশি নগদ উদ্ধার করেছে। শুধু টাকাই নয়, ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা, টাকা গোনার মেশিন এবং চারটি বিলাসবহুল গাড়ি ও একটি স্কুটারও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, এই গেস্ট হাউসটিকে কেন্দ্র করে একটি বড় ধরনের হাওয়ালার কারবার চালানো হচ্ছিল। পুলিশের একটি সূত্র দাবি করছে, বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা সংগ্রহ করে এই গোপন আস্তানায় তা গোনা হতো। এরপর হাওয়ালার মাধ্যমে সেই টাকা পাচার করা হতো। এই পুরো চক্রটি পরিচালনার জন্য একটি ভুয়ো কল সেন্টারের আড়াল ব্যবহার করা হতো বলেও অভিযোগ। টাকা পাচারের কাজে ব্যবহৃত গাড়িগুলোর গতিবিধি এবং এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে গেস্ট হাউসের আশেপাশের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা।

তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, উদ্ধার হওয়া টাকার সাথে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার ধৃত প্রসন্ন কুমার রায়ের কোনো যোগসূত্র আছে কি না। এছাড়া, টাকা পাচারের কাজে জড়িত একাধিক ব্যক্তির খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ। এই চক্রের পেছনে রাজনৈতিক কোনো ব্যক্তিত্ব বা প্রভাবশালী মহলের মদত রয়েছে কি না, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গেস্ট হাউসে আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ছক মানা হতো এবং টাকা পাঠানোর জন্য বিশেষ বাহক বা ব্যক্তিদের কাজে লাগানো হতো।

বিধাননগর পুলিশের শীর্ষ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা এবং নথিপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টাকা গোনার মেশিন ও বিলাসবহুল গাড়িগুলো থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গাড়িগুলোর রুটের গতিবিধি পরিষ্কার করার চেষ্টা চলছে। গেস্ট হাউসের মালিক এবং এর সাথে যুক্ত কর্মচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এই হাওয়ালার জাল কতটা বিস্তৃত, তা জানার চেষ্টা করছেন গোয়েন্দারা। নিউটাউনের মতো এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে কীভাবে এমন বেআইনি কারবার চলল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তবে পুলিশের দাবি, বড় কোনো অপরাধী চক্রকে ধরার লক্ষ্যে এই অভিযান আরও জোরালো করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই প্রকাশ্যে আসবে এই রহস্যময় কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড কে।