তিলোত্তমা কলকাতা— কখনও ‘সিটি অফ জয়’, কখনও আবার ‘মিছিলের শহর’। কিন্তু সাম্প্রতিক নির্বাচনী আবহে এই শহরকে নিয়ে এক নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, বাম ও তৃণমূল জমানায় কলকাতা নাকি ‘ঝোপড়পট্টির শহরে’ (Slum City) পরিণত হয়েছে। এই মন্তব্যের পরই তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন-সহ একাধিক নেতা বিজেপির বিরুদ্ধে তথ্য বিকৃতির অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু সেন্সাস রিপোর্ট বা সরকারি পরিসংখ্যান আসলে কী বলছে?
কলকাতার বস্তির খতিয়ান
ভারতের সর্বশেষ জনগণনা (২০১১) অনুযায়ী, কলকাতার চিত্রটি নিম্নরূপ:
কলকাতায় নথিভুক্ত বস্তির সংখ্যা প্রায় ২,০১১টি এবং অলিখিত বস্তি প্রায় ৩,৫০০টি।
শহরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৩ শতাংশ মানুষ বস্তি এলাকায় বসবাস করেন।
৩ লক্ষেরও বেশি পরিবারে আনুমানিক ১৪.৯ লক্ষ মানুষের ঠিকানা এই বস্তিগুলো।
জাতীয় প্রেক্ষাপট: কলকাতা কি শীর্ষে?
অমিত শাহের দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে গেলে ভারতের অন্যান্য মহানগরীর দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। শতাংশের বিচারে পরিসংখ্যান বলছে অন্য কথা:
মুম্বই: ভারতের বাণিজ্যনগরীর প্রায় ৪২% মানুষ বস্তিবাসী (৫.২ মিলিয়ন)।
কলকাতা: ৩৩% মানুষ বস্তিতে থাকেন।
চেন্নাই: প্রায় ২৮% মানুষ বস্তিবাসী।
দিল্লি: প্রায় ১৫%।
অর্থাৎ, তথ্যগতভাবে মুম্বইয়ের তুলনায় কলকাতায় বস্তিবাসীর হার অনেকটাই কম এবং চেন্নাইয়ের প্রায় কাছাকাছি। তাই শুধুমাত্র কলকাতাকেই ‘বস্তির শহর’ বলা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিশেষজ্ঞরা।
নগরায়ণ ও বাস্তবতা
দ্রুত শিল্পায়ন ও কাজের খোঁজে গ্রাম থেকে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতাই ভারতের মেট্রো শহরগুলোতে বস্তি বাড়ার প্রধান কারণ। এটি কেবল পশ্চিমবঙ্গের নয়, বরং গোটা দেশের একটি সাধারণ সমস্যা।





