কলকাতার বুকে আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে, দুষ্কৃতীদের হাতে আক্রান্ত পুলিশকর্মী, গ্রেফতার মূল পাণ্ডা

কলকাতার বুকে দুষ্কৃতীদের হামলায় গুরুতর জখম হলেন এক পুলিশকর্মী। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতা পুরনিগমের ৯৯ নম্বর ওয়ার্ডে। আহত ওই পুলিশকর্মীর নাম দীনবন্ধু কেশ, তিনি নেতাজিনগর থানার একজন সাব-ইন্সপেক্টর। এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে ওই এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি এবং পেশায় আইনজীবী দীপায়ন ঘোষের বাড়ির সামনে আট-দশজন দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র নিয়ে হাজির হয়। তারা ওই তৃণমূল নেতাকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও হুমকি দিতে থাকে।

হামলা ও গ্রেফতার
খবর পেয়ে নেতাজিনগর থানার সাব-ইন্সপেক্টর দীনবন্ধু কেশ তার দল নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা পুলিশের উপরই ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দীনবন্ধু কেশকে আঘাত করে। দুষ্কৃতীদের দলে কিছু মহিলাও ছিলেন, যারা পুলিশের কাজে বাধা দেন। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্য পুলিশকর্মীরা দীনবন্ধুকে উদ্ধার করে বাঘাযতীন হাসপাতালে নিয়ে যান।

কিন্তু এখানেই শেষ নয়। দুষ্কৃতীদের মূল পাণ্ডা জয়ন্ত ঘোষের নেতৃত্বে হাসপাতালের জরুরি বিভাগেও হামলা চালানো হয়। সেখানেও তারা চিকিৎসাকর্মীদের উপর আক্রমণ করে এবং সার্জিকাল কাঁচি দিয়ে ওই সাব-ইন্সপেক্টরকে আঘাত করার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ গিয়ে জয়ন্ত ঘোষসহ মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে।

তদন্তের গতিপ্রকৃতি
এই ঘটনায় পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে কেন দুষ্কৃতীরা ওই তৃণমূল নেতার বাড়িতে হামলা করতে এসেছিল এবং পুলিশের উপর কেন আক্রমণ করল। গ্রেফতার হওয়া জয়ন্ত ঘোষসহ বাকিদের জেরা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আইনজীবী দীপায়ন ঘোষকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। এ বিষয়ে কলকাতা পুলিশের কোনো শীর্ষ আধিকারিক মুখ না খুললেও, একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আধিকারিক জানিয়েছেন, “পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।”