ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে কর্ণাটক পুলিশের হাতে চরম হেনস্থার শিকার হলেন বাংলার এক মহিলা! সমাজকর্মীর দ্রুত হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাত থেকে রেহাই পেলেন ওই পরিচারিকা ও তাঁর স্বামী। ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ভার্থুর থানা এলাকায়, যা নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে দুই রাজ্যে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় কর্ণাটকের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর স্বয়ং পুলিশের কাছে রিপোর্ট তলব করেছেন।
জানা গিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা সুন্দরী বিবি (৩৪) বেঙ্গালুরুর ভার্থুর এলাকার একটি আবাসনে পরিচারিকার কাজ করেন। গত ৩১ অক্টোবর ফ্ল্যাট পরিষ্কারের সময় তিনি মেঝেতে একটি ১০০ টাকার নোট কুড়িয়ে পান এবং সঙ্গে সঙ্গেই সেটি বাড়ির মালিককে ফিরিয়ে দেন। কিন্তু এরপরেই চরম বিপত্তি! মালিকের অভিযোগ, তাঁর ফ্ল্যাট থেকে টাকা-সহ একটি সোনার আংটি চুরি হয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই ভার্থুর থানার পুলিশ সুন্দরী বিবি ও তাঁর স্বামীকে থানায় নিয়ে গিয়ে ‘তদন্তের’ নামে চরম অপমান ও হেনস্থা করে বলে অভিযোগ।
পরে এক সমাজকর্মী এই অমানবিক ঘটনার কথা জানতে পেরে দ্রুত থানায় পৌঁছে ওই দম্পতিকে পুলিশের কবল থেকে মুক্ত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চরম নির্দেশ: ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে কর্ণাটকের প্রশাসন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি পরমেশ্বর সাংবাদিকদের বলেন, “ভার্থুর পুলিশের বিরুদ্ধে একজন পরিচারিকাকে বেআইনিভাবে হেনস্থা এবং আটকের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনারকে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে দ্রুত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীদের দোষ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বেঙ্গালুরুর পুলিশ কমিশনার সীমান্ত কুমার সিংও হোয়াইফিল্ড বিভাগের ডিসিপিকে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পশ্চিমবঙ্গে তোলপাড়: বেঙ্গালুরু পুলিশের এই বর্বরোচিত ব্যবহারের খবর পৌঁছতেই পশ্চিমবঙ্গ প্রশাসনেও চরম চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নির্যাতিতা সুন্দরী বিবির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বাংলার প্রশাসন বেঙ্গালুরু পুলিশের আচরণের তীব্র নিন্দা করেছে। এদিকে সাংসদ সমীরুল নির্যাতিতাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্য মহিলা কমিশন এই ঘটনায় একটি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তাদের কাছে কড়া চিঠিও পাঠিয়েছে।





