করুণ আর্তি, টোটো চালকের ছেলের শরীরে বাসা বেঁধেছে DMD! পেশিশক্তি ক্ষয়ের বিরুদ্ধে অসম লড়াই, ভারতে চিকিৎসা নেই

মাত্র সাত বছরের ছোট্ট দ্বীপায়ন সাহা এখন এক কঠিন অসম লড়াইয়ে নেমেছে। তার শরীরে বাসা বেঁধেছে বিরল ও জটিল রোগ ডুচেন মাসকুলার ডিস্ট্রফি (DMD)। এই রোগে ধীরে ধীরে পেশির শক্তি ক্ষয় হতে থাকে, এবং একসময় চলাফেরা, এমনকি শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। আধো আধো কথায় দ্বীপায়নের আকুতি শুনে যে কারও চোখে জল আসতে বাধ্য।

কিন্তু দ্বীপায়নের বাঁচার পথে সবচেয়ে বড় বাধা আর্থিক। চিকিৎসকদের মতে, এই রোগের চিকিৎসায় যে বিশেষ ওষুধ দরকার, তা ভারতে পাওয়া যায় না। যুক্তরাষ্ট্র থেকে আনতে হয় সেই ওষুধ, যার খরচ প্রায় ২৭ কোটি টাকা! সাধারণ টোটো চালকের পক্ষে এই বিপুল অর্থ বহন করা একেবারেই অসম্ভব।

বাবা টোটো চালক, শেষ হয়েছে পরিবারের সব সঞ্চয়
নগরউখড়ার বাসিন্দা দ্বীপায়নের বাবা মৃত্যুঞ্জয় সাহা পেশায় একজন টোটো চালক। দৈনিক আয়ের উপরই নির্ভর করে তাঁর সংসার। ছেলের চিকিৎসায় ইতিমধ্যেই পরিবারের সমস্ত সঞ্চয় প্রায় শেষ। আত্মীয়-স্বজনেরাও সবরকমভাবে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, রোগটি যত দ্রুত ধরা পড়ে চিকিৎসা শুরু করা যায়, দ্বীপায়নের বাঁচার সম্ভাবনা ততই বাড়বে। কিন্তু সেই চিকিৎসা পেতে গেলে প্রয়োজন সমাজের সকল স্তরের মানুষের সম্মিলিত সাহায্য।

বাবা-মায়ের পাশাপাশি তাই ছোট্ট দ্বীপায়নও এখন নিজেকে সুস্থ করে তোলার জন্য সমাজের সকল স্তরের মানুষের কাছে মাথা নত করে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছে। দ্বীপায়নের বাবা মৃত্যুঞ্জয় সাহা বলেন, “২৭ কোটি সংখ্যাটা ছোঁয়ার জন্য প্রয়োজন অনেক অনেক মানুষের সাহায্য। সবাই পাশে দাঁড়ালে দ্বীপায়ন বাঁচার একটি সুযোগ পাবে।”