কম পরিশ্রমে বাম্পার লাভ! হাওড়ার চাষিদের ভাগ্য ফেরাতে মাঠে নামল উদ্যানপালন দফতর, জানুন বিশদ বিবরণ!

হাওড়া জেলায় কৃষকদের আর্থিক উন্নয়ন এবং স্থানীয় বাজারে ফলের জোগান বৃদ্ধি করতে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এক যুগান্তকারী ও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাজ্য খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র ও উদ্যানপালন দফতরের যৌথ উদ্যোগে স্থানীয় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রজাতির উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিকর ফলের চারাগাছ প্রদান করা হচ্ছে। এই অভিনব পদক্ষেপের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও চাঙ্গা হবে এবং চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

দফতরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ও নিবিড় তত্ত্বাবধানে এই পুরো কার্যক্রমটি মাঠপর্যায়ে অত্যন্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন করছে ‘বাগনান অ্যাগ্রো প্রডিউসার লিমিটেড’। সংস্থার ডিরেক্টর পুলক ধারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কৃষকদের প্রকৃত চাহিদা ও তাঁদের জমির পরিমাপের ওপর সম্পূর্ণ ভিত্তি করেই এই চারা বিতরণ করা হচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি মেনে প্রতি বিঘা জমিতে আম্রপালি আমের ২৫টি বা ৫৩টি পর্যন্ত চারা নির্দিষ্ট দূরত্ব বা ফুট বাই ফুট নিয়ম মেনে রোপণের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে, যাতে গাছের সঠিক বৃদ্ধি ও সর্বোচ্চ ফলন নিশ্চিত করা যায়।

এই মহৎ প্রকল্পের আওতায় শুধুমাত্র আম বা লেবু নয়, বরং মোট ১৭ ধরনের উন্নতমানের ও পুষ্টিকর ফলের চারা সরবরাহ করা হচ্ছে। তালিকায় রয়েছে সুস্বাদু আম, লেবু, পেয়ারা, আধুনিক ড্রাগন ফ্রুট, পুষ্টিকর সজনে, ডালিম, শবেদা, নারকেল ও স্বাস্থ্যকর জাম সহ নানা জাতের চারাগাছ। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রধানত বাগনান-১, বাগনান-২ এবং শ্যামপুর-১ ব্লকের নির্বাচিত কৃষকদের এই প্রকল্পের আওতায় এনে চারা তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে এর পরিধি আরও বাড়িয়ে সমগ্র হাওড়া জেলাজুড়েই পর্যায়ক্রমে এই গুরুত্বপূর্ণ কাজ অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চাষিদের হয়রানি কমাতে এবং প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত সহজ করতে এই কার্যক্রমে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ফোনালাপ এবং বিভিন্ন নিবন্ধিত কৃষক গ্রুপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চারা বিতরণ করা হচ্ছে। এর জন্য কৃষকদের কোনো ধরনের জটিল বা দীর্ঘমেয়াদী কাগজপত্রের ঝক্কি পোহাতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র একটি সাধারণ মাস্টার রোলে স্বাক্ষর করেই কৃষকরা তাঁদের প্রয়োজনীয় চারা বিনা মূল্যে সংগ্রহ করতে পারছেন।

আগামী সেপ্টেম্বর মাস জুড়ে এই বিশেষ চারা বিতরণ কার্যক্রম পূর্ণোদ্যমে চলবে। তবে চারাগুলো সঠিক ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে মাটিতে লাগানো হয়েছে কিনা এবং তার যথাযথ পরিচর্যা হচ্ছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে ঠিক এক মাস পর দফতরের পক্ষ থেকে সরেজমিনে পরিদর্শনের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সরকারের এই সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ হাওড়ার সাধারণ কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে এক বিরাট ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে বলে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে।