রাজনৈতিক মহলে চরম উত্তেজনা, জাতি জনগণনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে মোদির বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত খড়্গ-রাহুল!

ভারতের রাজনৈতিক ময়দানে আবারও উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে জাতি জনগণনা সংক্রান্ত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকাৰ্জুন খড়্গ এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী যৌথভাবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিতে বর্তমান জনগণনার প্রক্রিয়া ও এর কার্যকারিতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, বর্তমান পদ্ধতিতে যে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, তা সঠিক চিত্র তুলে ধরতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।

চিঠিতে প্রধানত বর্তমান জনগণনার প্রশ্নমালা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানানো হয়েছে। কংগ্রেসের শীর্ষ দুই নেতার মতে, যেভাবে ডেটা সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং যেভাবে মানুষের কাছে প্রশ্ন রাখা হচ্ছে, তাতে দেশের প্রকৃত সামাজিক ও অর্থনৈতিক চিত্র আড়ালে চলে যাবে। তাঁরা অবিলম্বে এই বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার ভিত্তিতে একটি নতুন ও সর্বসম্মত প্রশ্নমালা তৈরি করার জোরালো আর্জি জানিয়েছেন, যাতে প্রতিটি জাতি ও সম্প্রদায়ের সঠিক পরিসংখ্যান দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

চিঠিতে খড়্গ ও রাহুল গান্ধী বিশেষভাবে ‘ওপেন-एंडড’ বা উন্মুক্ত প্রশ্ন পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এই পদ্ধতিতে প্রতিটি ব্যক্তি নিজের পছন্দমতো বা এলাকার প্রচলিত নামে নিজের জাতির নাম নথিভুক্ত করাবেন। ভারতের মতো বিশাল ও বৈচিত্র্যময় দেশে একই জাতি বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন নামে, উপজাতিতে এবং স্থানীয় ভাষায় পরিচিত। ফলে যদি এই উন্মুক্ত পদ্ধতি বজায় রাখা হয়, তবে একটিমাত্র জাতিই হাজার হাজার বিভিন্ন নামে বিভক্ত হয়ে পড়বে। এর জেরে সারা দেশে লক্ষাধিক জাতির নাম সামনে চলে আসবে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং পুরো জনগণনার প্রক্রিয়াটিকে একেবারে অর্থহীন ও অনুপযোগী করে তুলবে।

নেতাদের মতে, সঠিক পরিসংখ্যানের অভাবে সামাজিক ন্যায়ের সমস্ত নীতি ও পরিকল্পনা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বিভিন্ন জাতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থান তখনই সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব, যখন গণনা নিখুঁতভাবে পরিচালিত হবে। সঠিক সংখ্যা নথিভুক্ত না হলে প্রান্তিক, অতি পিছিয়ে পড়া এবং অন্যান্য বঞ্চিত সম্প্রদায়গুলো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্প এবং সামাজিক ন্যায়ের নীতি নির্ধারণের ওপর। এছাড়া বর্তমান পদ্ধতিতে অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি বা ওবিসি-র সঠিক জনসংখ্যা কত, তা কোনওভাবেই স্পষ্ট হবে না, কারণ জনগণনার ফরম্যাটে স্বয়ং ‘পিছিয়ে পড়া শ্রেণি’ শব্দটির উল্লেখ পর্যন্ত নেই।

এই গুরুতর সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য কংগ্রেস নেতারা একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবও পেশ করেছেন। তাঁরা সরকারের কাছে একটি পূর্বনির্ধারিত ‘ড্রপ-ডাউন’ বা তালিকাভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরামর্শ দিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় জনগণনার অ্যাপ বা ফর্মে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত বিভিন্ন জাতির নাম আগে থেকেই তালিকাভুক্ত থাকবে এবং গণনাকারীকে নির্দিষ্ট তালিকা থেকেই সঠিক জাতি বেছে নিতে হবে। উল্লেখ্য, বর্তমান তফশিলি জাতি (এসসি) এবং তফশিলি উপজাতি (এসটি)-র গণনার ক্ষেত্রেও মূলত এই একই পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই তালিকাটি বর্তমান সরকারি তালিকা, যেমন সামাজিক ও শিক্ষাগতভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির তালিকা এবং অ্যানথ্রোপোলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার তথ্যের ওপর ভিত্তি করে সহজেই প্রস্তুত করা যেতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে চিঠিতে তেলেঙ্গানা এবং বিহারে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া জাতিভিত্তিক সমীক্ষার প্রসঙ্গ উল্লেখ করা হয়েছে। দুই নেতাই দাবি করেছেন যে, ওই রাজ্যগুলিতে সফলভাবে এই বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিই অবলম্বন করা হয়েছিল এবং সেই মর্মে ওই রাজ্যগুলির সমীক্ষার তালিকাও চিঠির সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। খড়্গ ও রাহুল গান্ধী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, বর্তমান ত্রুটিপূর্ণ পদ্ধতিতে পরিচালিত জাতি জনগণনা তাঁরা কিছুতেই মেনে নেবেন না। তাঁরা অবিলম্বে সরকারের কাছে বর্তমান প্রশ্নমালা বাতিল করার এবং সমস্ত অংশীজনের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনার মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও নিখুঁত নতুন প্রশ্নমালা প্রণয়নের জোরালো দাবি জানিয়েছেন।