কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ‘অননুমোদিত’ প্রতিনিধি দল! তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি, বিস্ফোরক সৌগত রায়

নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে বৈঠককে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলের একাংশের অভিযোগ, কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়াই একটি বিশেষ গোষ্ঠী কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছে, যা দলের সাংগঠনিক নিয়মের পরিপন্থী। প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য এই বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
মূল বিবাদের জায়গা: দলের একাংশের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী শুধুমাত্র দলের পক্ষ থেকে ‘অথোরাইজড’ প্রতিনিধিরাই বৈঠক করতে পারেন। কিন্তু বর্তমানে তৃণমূলের একটি ভিন্ন গোষ্ঠী দলের অনুমোদন ছাড়াই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে বলে অভিযোগ। সৌগত রায়ের মতে, দলীয়ভাবে অনুমোদিত প্রতিনিধি ছাড়া এইভাবে বৈঠক করা কতটা সাংবিধানিক বা নৈতিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বহিষ্কৃত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে দল ভাঙার এই প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর: সৌগত রায় এই পুরো প্রক্রিয়ার পেছনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের কৌশল রয়েছে বলে দাবি করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলগুলিকে দুর্বল করার জন্য কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করার পাশাপাশি রাজনৈতিক ভাঙন ধরানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে তিনি রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের তহবিল অপব্যবহারের অভিযোগকেও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
মহুয়া মৈত্র ও জনপ্রতিনিধিদের সুরক্ষা: মহুয়া মৈত্রকে নিয়ে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আক্রমণ নিয়েও সরব হয়েছেন সৌগত রায়। তিনি জানান, জনপ্রতিনিধিরা যাতে নিজেদের এলাকায় স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে স্পিকারের প্রতিনিধির কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাজকর্মে বাধা সৃষ্টি করা গণতান্ত্রিক কাঠামোর পরিপন্থী।
তৃণমূলের মুখ নির্বাচন: সবশেষে সৌগত রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তৃণমূলের পরবর্তী মুখ বা নেতৃত্ব কে হবেন, তা সম্পূর্ণভাবে দলের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। দলের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়টি দলই পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সফরকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের এই দুই শিবিরের দ্বন্দ্ব কার্যত প্রকাশ্যে চলে এল, যা আসন্ন দিনগুলোতে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারে।